গুণবতী রেল স্টেশনের পাশে পাকিস্তানীদের ক্যাম্পের কাছে চলে গিয়েছিলাম …………….‘৬৯ এর ছাত্র আন্দোলন নেতা মুনির আহমেদ

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণ

স্টাফ রিপোর্টার
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণ পরিষদের ব্যবস্থাপনায় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বিজয় মেলার মঞ্চে ‘৬৬ ও ‘৬৯ এর ছাত্র আন্দোলন নেতা মুক্তিযোদ্ধা মুনির আহমেদ স্মৃতিচারণ করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের সভাপতিত্বে এবং স্মৃতিচারণ পরিষদের আহ্বায়ক ইয়াকুব মাস্টারের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুনির আহমেদ বলেন, ৪৯তম স্বাধীনতা দিবসে এ ধরনের অনুষ্ঠানে আমার আর আসা হয়নি। এ বছর আমার প্রথম আসা। সেই সৌভাগ্যের মধ্যমনি হলেন আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। দেরিতে হলেও আমার সেই স্মৃতি, কথা-বার্তা এখানে এসে বলতে পারছি। আমি নির্বিত প্রকৃতির মানুষ। পর্দার আড়ালে থাকতে পছন্দ করতাম। ছাত্রলীগ করেছি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলাম। সেখানেও আমি আড়ালে থাকতাম। মুক্তিযুদ্ধের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নিজেকে বিকশিত করেছি। ‘৬১ কী ‘৬২ সালে যখন ছাত্র হিসেবে চাঁদপুর কলেজে প্রবেশ করি। তখন রাজনীতিতে আমি পা রাখি। ‘৬২ সালে বড়-বড় নেতাদের দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। তখন থেকে আমি রাজনীতি করা শুরু করি। ‘৬২ ও ‘৬৩ সালে চাঁদপুর কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করি। ওয়ান মিনিটে বসে আড্ডা দিতাম। ‘৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষাক্ত ছোবলের কথা না বললেই না হয়। তৎকালীন পাকিস্তানী গর্ভনর মোনায়েম খান ময়মনসিংহ থেকে আসছেন। তখন পাকিস্তান বিরোধী লিফলেট ছুটে মারল মুনায়েম খানের গাড়ির দিকে। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার বাসার পেছনে ছিল নিউ হোস্টেল। সেখানে চরাঞ্চলের দেশ শতাধিক ছাত্র থাকতো। তাদের একত্রিত করে ছাত্রলীগকে চাঙ্গা করলাম।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাঁদপুর সরকারি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়নকে পরাস্ত করে ছাত্রলীগকে বিজয়ী করি। আব্দুল করিম পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এসে ছাত্রলীগকে সু-সংগটিত করি। ‘৬৬ বা ‘৬৭ সালে বঙ্গবন্ধুকে দ্বিতীয়বার দেখি। করিম পাটওয়ারীর নেতৃত্বে আমরা স্টিমার ঘাটে গিয়ে তার সাথে দেখা করি। সেদিন বঙ্গবন্ধু স্টিমারযোগে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছিলেন। আমিও বঙ্গবন্ধুর ভক্ত হিসেবে যোগ হলাম। ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান আমাদের দিকে ধাবিত করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জনতা বানের স্রোতের মত ভাসিয়ে দিল। বঙ্গবন্ধু মুক্ত হয়ে ফিরলেন। মার্চ মাস আসল। আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি ৬ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে চাঁদপুরের প্রতিটি আসন বিজয়ী করি। আমরা যেভাবে অগ্রসর হচ্ছিলাম পাকিস্তানিরা তা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে চাইছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশ পরিচালিত হতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য শোনার আগ্রহ শুনতে রইলাম। কিন্তু টিভি ও রেডিও তা প্রচার করেনি। আমি পরদিন সকালে সেই বক্তব্য শুনলাম। ৭ মার্চের কয়েক মিনিটের বক্তব্য। বঙ্গবন্ধু ওই ভাষনের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে প্রেরণা জোগালেন। ২৫ মার্চ রাতে হায়েনার দল নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এই দেশকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চেয়েছে। শত্রুদের কিভাবে প্রতিহত করতে হবে ৭ মার্চ ভাষণে বঙ্গবন্ধু দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। হায়েনার দল বাঙ্গালি জাতির উপর আক্রমণ চালাল। আমি তখন ৫০ সিসির মোটর সাইকেল নিলাম। ২ জন সাংবাদিককে সাথে নিয়ে পুরো শহর দেখালাম। সন্ধ্যায় হানিফ পাটওয়ারীর নেতৃত্বে গনি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে হাত বোমা তৈরি করা হতো। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা গুয়াখোলার মধু বোস বোমা বানাতে দক্ষ ছিল। ছাত্রলীগ নেতারা গনি স্কুলে বোমা বানাত। আগরতলা থেকে আসা সাংবাদিক সুজিত ঘোষাল ও দীপক ব্যানার্জী আমার প্লান দেখে হাসলো, হাত বোমা দিয়ে পাকিস্তানের মোকাবেলা করবো এ কথা বলাতে। চাঁদপুরের ইতিহাসে প্রথম শহীদ কালাম-খালেক-সুশীল-সংকরের কথা তাদের কাছে তুলে ধরলাম। মিজানুর রহমান চৌধুরীকে আমি দাদা বলে ডাকতাম।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাড. বদিউজামান কিরন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম কিবরিয়া, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মেহেদী হাসান মানিক, বিজয় মেলার সাবেক চেয়ারম্যান বিনয় ভূষণ মজুমদার, স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহসিন পাঠান প্রমুখ।
শুরুতেই অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরন ও মহাসচিব হারুন আল রশীদ।