গজারিয়া-মতলব সংযোগ সেতুর এলাইমেন্ট পরিদর্শনে পরামর্শক দল

অতিদ্রুত সময়ের মধ্যেই সেতুর কাজ শুরুর আশ্বাস

মনিরুল ইসলাম মনির
গজারিয়া-মতলব সংযোগ সেতুর এলাইমেন্ট পরিদর্শন করা হয়েছে। চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রাণের দাবি গজারিয়ার ভবেরচর ও মতলব উত্তরের কালীপুর সংযোগ সেতুর বাস্তবায়ন। সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর সাথে দ্রুত সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হবে।
এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সেতু মন্ত্রণালয়। গজারিয়ার চরকালীপুর থেকে মতলব উত্তরের জামালপুর গ্রামের মধ্যে সেতু বাস্তবায়নের জন্য সোমবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু বিভাগ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সিনিয়র পরামর্শক দল পরিদর্শন করেন। চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল এসময় পরামর্শক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে সেতুর প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধাদি নিয়ে আলোচনা করেন। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ উদ্বোধন করার আহ্বান জানান তিনি।
মতলববাসীর স্বপ্নের সেতু (গজারিয়ার ভবেরচর ও মতলব উত্তরের কালীপুর সংযোগ সেতু) পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ সেতু বিভাগ ও সেতু কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন করেন সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মনিরুজ্জামান, যুগ্ম-সচিব আনোয়ার হোসেন, আলতাফ হোসেন শেখ, রাহিমা আক্তার ও শাহীন খান শাহীন, প্রকল্প পরিচালক মো. লিয়াকত আলী, উপ-সচিব ভিখারুদৌল্লা চৌধুরী ও হাসান সারোয়ার, সচিবের একান্ত সচিব এএসএম রিয়াদ হাসান গৌরব, ডেপুটি টিম লিডার মানজুল হক খান এবং টিফসা কনসাল্টেন্ট টীম।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ছেংগারচর পৌরসভার প্রশাসক মো. হেদায়েত উল্লাহ, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম শরীফ উল্লাহ সরকার, মতলব উত্তর উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান রাসেল ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি রহমত উল্লাহ চৌধুরী, শরীফ উল্লাহ সরকার, ষাটনল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান চৌধুরী ভুলনসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।
ঢাকা থেকে গৌরীপুর ও মতলব উত্তর উপজেলা সদর হয়ে চাঁদপুর জেলা সদরে বর্তমান দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। কিন্তু ঢাকা থেকে ভবেরচর হয়ে গজারিয়া উপজেলার সীমানার উপর দিয়ে প্রস্তাবিত সেতু হয় (মতলব কালীপুর-গজারিয়ার ভবেরচর সেতু) তাহলে চাঁদপুর জেলা সদরের দূরত্ব সর্বোচ্চ ৬৮ কিলোমিটার। সেতু নির্মিত হলে ঢাকা-চাঁদপুর জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার সড়ক পথ কমে যাবে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভ্রমণ ব্যয় কমবে একই সাথে ভ্রমণ সময়ও কমবে প্রায় এক ঘণ্টা।
সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ও বাগানবাড়ি ইউনিয়নের অংশবিশেষ এলাকার মেঘনা নদী। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ও গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের অংশবিশেষ মেঘনা নদী।
মেঘনা নদীর ওপর প্রায় ১.৫০ কিলোমিটার এই সেতু নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) অধীনে সেতুর উভয় পাশে নির্মিত হবে আঞ্চলিক মহাসড়ক।
এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সভা সমাবেশে দাবি করে আসছে, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলা ও মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ার ভবেরচর সংযোগ মহাসড়কে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য। প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য ১.৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ সাত দশমিক ৩২ মিটার। এদিকে সেতুর উভয় পাশে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মিত হবে। মহাসড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ অনুমোদনের অপেক্ষায়।
মতলব-গজারিয়া সেতুর কাজ শুরু হবে জানার পর থেকে এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। এলাকাবাসী জানান, মেঘনা নদীতে সেতু নির্মিত হলে চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের লোকজন রাজধানী ঢাকায় সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।
এছাড়া মতলব উত্তরে নির্মিত হতে যাওয়া অর্থনৈতিক জোনসহ চাঁদপুরের কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের বিকাশেও সেতুটির অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
এ খুশির খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. শামসুল আলম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলাবাসী।
চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল বলেন, মেঘনা নদীতে মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু নির্মাণ মতলব উত্তর, দক্ষিণ তথা চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। ইতোমধ্যে মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট ও ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষাসহ প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে।

২৬ জুলাই, ২০২২।