স্টাফ রিপোর্টার
ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতে চাঁদপুরে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হচ্ছে না শহরের লোকজন। গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষজনও বাড়িতে অবস্থান করছেন। শহরের রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা নেই। বৃষ্টিপাত বাড়ার দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমছে। ফলে অনেকটাই শীতের আমেজ চলে এসেছে।
এদিকে সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে চাঁদপুরে অফিসগামী থেকে শুরু করে সাধারণ লোকজন যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় প্রভাবে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও শ্রমজিবী লোকজনদের সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অন্য দিনের চেয়ে এ দিন তাদের আয়-রোজগার কম হয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মাঝে মধ্যে সূর্যের দেখা মিললেও তা ছিলো ক্ষনস্থায়ী।
গতকাল সোমবার ভোর থেকে চাঁদপুরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত দুপুর ১২টা পর্যন্ত। বৃষ্টি অব্যাহত আলু আবাদের ক্ষতির শঙ্কা করছেন কৃষকরা।
চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাকরোডের ব্যবসায়ী শুক্কুর গাজী জানান, রোববার সারাদিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও বিক্রি ছিলো। সোমবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে ক্রেতা নেই। যার কারণে দুপুর পর্যন্ত হোটেল বন্ধ রেখেছি।
একই সড়কের চা দোকানী মো. আনসার মিয়া জানান, সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে দোকান খুলেছি। বসে আছি কোন ক্রেতা নেই। ঘরে কত সময় বসে থাকা যায়। বৃষ্টি আরও কত সময় থাকে আল্লাহ ভাল জানেন।
চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকার কৃষক সোলাইমান গাজী জানান, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আমাদের আলুর জমিগুলোতে পানি জমে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভাল আছে।
শহরের মিশন রোড, বঙ্গবন্ধু সড়ক, পাল পাড়া, আলিম পাড়া, নতুন বাজার, স্টেডিয়াম রোড, বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখাগেছে যানবাহন খুবই কম। আবাসিক এলাকার সড়কগুলোতে প্রতিদিন হকারদের ভ্যানগাড়ী লাইন লেগে থাকত সব্জি, মাছ ও ফল নিয়ে। সকাল ১১টার দিকে কয়েকটি ভ্যান গাড়ীতে সব্জি থাকলেও ক্রেতা দেখা যায়নি। সব্জিগুলো বৃষ্টির পানিতে ভিজতে দেখাগেছে।
চাঁদপুর আবহাওয়া কর্মকর্তা শাহ্ মুহাম্মদ শোয়েব বলেন, গত ৩৩ ঘণ্টায় চাঁদপুরে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামি ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়া ক্রমান্বয়ে উন্নতি হতে পারে। আজ চাঁদপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৭১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
০৭ ডিসেম্বর, ২০২১।
