মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চট্টগ্রামে খুন হওয়া হাজীগঞ্জের শিশু আবদুর রহমান আরাফ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার (০৮ জুন) দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ওই বাড়ির দারোয়ান হাছান ও দারোয়ানের মা। এর আগে গত রোববার রাতে দারোয়ান হাছান তার মায়ের সহযোগিতায় শিশু আরাফকে হত্যা করে বাড়ির ছাদে পানির ট্যাঙ্কিতে ফেলে রাখে।
ঐদিন (রোববার) বিকালে শিশু আরাফ নিখোঁজ হয়। রাতেই পানির ট্যাঙ্কি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশুর বাবা আবদুল কাইয়ুম চট্টগ্রামের বাকুলিয়া থানাধীন মিয়া খান নগর এলাকার ম্যাচ ফ্যাক্টরী মুনসুর আলী রোডের ৭তলা ভবনের নিচতলায় সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের তারালিয়া গ্রামে। তিনি চট্টগ্রামে অপসোনিন ফার্মার সিনিয়র মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত।
শিশুর বাবা আব্দুল কাইয়ুম জানান, দারোয়ান হাছান পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। সে এই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য পার্শ্ববর্তী ফরিদের পরামর্শে হাছান ও তার মা আরাফকে হত্যা করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো, আরাফকে হত্যা করলে বাড়ির মালিক নুরুল আমিন ঝামেলায় পড়বেন। এতে তার বেশ কিছু টাকা খরচ হবে। আর ওই টাকা হাছানের মাধ্যমে খরচ হবে। এতে সে লাভবান হবে এবং তার ঋণের টাকা পরিশোধ হবে।
জানা গেছে, ওই ভবনের মালিক নুরুল আলম আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডে (১৯নং ওয়ার্ড) কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী। তার ভাই একই ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর। এই দুই ভাইয়ের হত্যার বলি হয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার তদন্ত করছে চট্টগাম মহানগরের বাকলিয়া থানার এসআই মো. আমির হোসেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু আরাফের মা বলেন, নিখোঁজের সময় দারোয়ান হাছান বাড়ির গেটে দাঁড়ানো ছিল এবং তার মা বোরকা পরা অবস্থায় তার সাথেই ছিল। তখনই আমাদের সন্দেহ হয়েছে। সোমবার রাতে গ্রামের বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের তারালিয়া গ্রামে শিশুটিকে দাফন করা হয় বলে তিনি জানান।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নেজাম উদ্দিন জানান, শিশু আরাফকে হত্যার দায়ে ওই ভবনের দারোয়ান ও তার মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃতদের চট্টগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দী নেয়া হয়।
৯ জুন, ২০২০।
