চরভৈরবীতে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন

৩শ’ কোটি টাকার নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে

সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মেঘনার আকষ্মিক ভাঙনে মসজিদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নদীর পাড় সংলগ্ন বসতভিটা এবং সরকারের ৩শ’ কোটি টাকার স্থায়ী প্রকল্প নদী রক্ষা বাঁধ রয়েছে হুমকির মুখে।
নদী ভাঙনের খবর পেয়ে গতকাল বুধবার সকাল ৮টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হানকে সাথে নিয়ে নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসি বেগমও মেঘনার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিক মসজিদসহ বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে জরুরিভিত্তিতে জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী।
স্থানীয় লোকজনের উদ্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, আমরা আপনাদের সেবক। আপনাদের সেবা করাই আমাদের কাজ। আপনাদের বসতভিটা, মসজিদ, জায়গা-জমি নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাবে তা আমরা হতে দিতে পারি না। আমি খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে চলে এসছি। খুব দ্রুত জিও ব্যাগের মাধ্যমে নদী ভাঙন থেকে আপনাদের এবং এই এলাকাকে রক্ষা করার চেষ্টা করবো। খুব সহসাই ঊর্ধŸতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ করে স্থায়ী বাঁধ দিয়ে নদী ভাঙন রোধ করা হবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারমান নূর হোসেন পাটওযারী বলেন, আমি গতকাল রাতে আপনাদের এলাকায় নদী ভাঙনের সংবাদটি পেয়েছি। রাতেই জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে আজ সকালে ভাঙন কবলিত এলাকায় এসেছি। যতদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকবে, যতদিন ডা. দীপু মনি এমপি থাকবেন ততদিন হাইমচরের মাটি এই সর্বনাশা মেঘনা একতিলও ভেঙে নিয়ে যেতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী বেগম জানান, ভাঙনকৃত এলাকাটি আমি পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।
ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ আলি মাস্টার জানান, গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে আমার এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে সরকারের স্থায়ী প্রকল্প নদী রক্ষা বাঁধ চরম হুমকির মুখে রয়েছে। আর একদিন অতিবাহিত হলে স্থানীয় মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতো। আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানালে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে এসে তাৎক্ষণিক জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করে মসজিদটি রক্ষা করেন।
পরে চরভৈরবী ইউনিয়নের জালিয়ার চরে নদী ভাঙনকৃত এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান এসএম কবির, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

১১ জুলাই, ২০১৯।