
ইবাদত ও খেলাফতের মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত
………….চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম
স্টাফ রিপোর্টার
চরমোনাই মাহফিলের নমুনায় চাঁদপুরে ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে স্টার আল-কায়েদ জুট মিল মাঠে ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। আখেরি মোনাজাতে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়।
মোনাজাত পূর্ব সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, ইবাদত ও খেলাফতের মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে। সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ আজ নানা সংকটে নিপতিত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদের উপর নির্যাতন নিপীড়নের সংবাদ আসছে প্রতিনিয়ত। মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য চলছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। এই পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষা ও ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হলে মুসলমানদের ঐক্যের বিকল্প নেই।
বিশেষ করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে সকল দুর্নীতি, দুঃশাসন ও কায়েমী স্বার্থবাদের মূলোৎপাটন করে ইসলামকে বিজয়ী করতে হলে মুসলিম নেতৃবৃন্দকে আন্তরিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। দ্রব্যমূল্য গণমানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকতে হবে।
বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চাঁদপুর জেলার ব্যবস্থাপনায় গত সোমবার দুপুরে চরমোনাই মাহফিলের নমুনায় চাঁদপুরে ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের উদ্বোধন করেন চরমোনাইয়ের মরহুম পীর রহমাতুল¬াহ আলাইহির সাহেবজাদা মুফতি সৈয়দ ইসহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের।
এছাড়া তিনদিনের মাহফিলে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উজানীর পীর মাও. ফজলে এলাহী, মাও. মাহবুবে এলাহী, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব সাইখুল হাদিস মাও. আব্দুল কুদ্দুস, খুলনার পীর অধ্যক্ষ হাফেজ মাও. ইউনুস আহমদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ড. আফম খালিদ হোসাইন, মুফতি ওমর ফারুক সন্দিপী, মাও. আব্দুল আউয়াল, মাও. আনোয়ার শাহ, মুফতি আবু ইউসুফ আল মাদানী, ডক্টর মাও. মোশারফ আহমদ, বাহাদুরপুরের পীরজাদা মাও. হানজালা আহমাদ, মাও. আবুল কালাম আজাদ শায়খুল হাদিস আল¬ামা মকবুল হোসাইনসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম।
চাঁদপুরে বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী মাহফিলে প্রথমদিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতি ছিল অবাক করার মতো। সুবিশাল পেন্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না। চাঁদপুর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ দূর-দুরান্ত থেকে ৯ ডিসেম্বর বাদ জোহর উদ্বোধনের আগ থেকেই মাহফিল মাঠে সমবেত হন। অনেকে আসেন কাফেলা সহকারে। সন্ধার পর থেকে আস্তে আস্তে মাঠ পরিপূর্ণ হতে থাকে বয়ান শোনার জন্য। প্রায় দীর্ঘ তিন মাস আগ থেকে প্রস্তুতি নেয়া এই মাহফিলের। মাহফিলে আগত মুসলি¬দের সুবিধার্থে গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক উদ্যোগ। তৈরি করা হয়েছে বেশ কিছু টয়লেট ও অজুখানা। এছাড়া ছিলো স্বেচ্ছাসেবক ক্যাম্প, নিরাপত্তা সেল ও মেডিকেল টিম।
