সজীব খান
১৪ আগস্ট লকডাউন তুলে দেওয়া হলেও চাঁদপুরের বিপণী বিতানগুলোতে এখনো মিলছে না ক্রেতা। মন্দা যাচ্ছে তাদের দিন। অলস সময় পার করছে তারা। কেউ ফেসবুক নিয়ে সময় পার করছে, কেউ ঝিমিয়ে-ঝিমিয়ে।
এমন পরিস্থিতিতে হতাশায় রয়েছেন তারা।
চাঁদপুরের ছোট-বড় সবপ্রকার শপিংমলের ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকতে হচ্ছে, সুদিনের অপেক্ষায় বিভিন্ন প্রসরা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। লকডাউন তুলে দেওয়ার পরেও ভাল নেই গার্মেন্টস, কসমেটিক্স, জুতা, এবং হোটেল ব্যবসায়ীরা। বড় বড় শপিংমলে টুকিটাকি বেচাকেনা হলে ও লোকশানের পাল্লা গুণতে হচ্ছে তাদের। একেবারে কেনা কাটায় আগ্রহ নেই নগরবাসীর। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ শপিংমলগুলোতে যাচ্ছে না। ঘরবন্দী হয়েই রয়েছে এখনো মানুষ।
এমতাবস্থায় বড় আকারের মূল্যছাড় দিয়েও গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য দিন গ্রাহক সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য হলেও ছুটির দিনে হাতেগোনা কিছু গ্রাহক পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটির দিনেও আশানুরূপ গ্রাহক পাচ্ছে তারা। লকডাউনে মানুষের অভ্যাসে এসছে বিশাল পরিবর্তন। অর্থনৈতিক দুরবস্থায় অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারই আছে সংকটের মাঝে। এর মধ্যে শৌখিন সাজগোজের অভ্যাসে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। অন্যদিকে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেও গ্রাহক সংখ্যা কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য হারে। চাঁদপুরের বিভিন্ন শপিংমলে মূল্যছাড় দিলেও মিলছে না ক্রেতা। করোনায় ঘরে থাকতে থাকতে গ্রাহকের আচরণ বদলে গেছে।
চাঁদপুর হকার্স মার্কেটের তামিম ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী আ. হান্নান খান মিলন জানান, চাঁদপুরের ছোট-বড় বিপণী বিতানগুলোতে কাস্টমার নেই বললেই চলে। এমনকি ছুটির দিনেও মানুষ আসছে না। আমরা ব্যবসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের এই খাতে অনেক মানুষ জড়িত থাকলেও সরকারি পর্যায়ে আমাদের কথা কেউ ভাবছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুরের কোন কোন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সারাদিনে কোন বিক্রিও করতে পারে না। মালিকদের ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, মার্কেটের খরচ, এভাবে বেচা-বিক্রি হলে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে বলে অনেক ব্যবসায়ী জানান।
২২ আগস্ট, ২০২১।
