স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ মে) চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ৮/১০টি টিম অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ শুরু করে। এই অভিযান প্রায় মাসখানেক যাবত চলবে বলে জানিয়েছেন বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। তবে গতকালের অভিযানে কয়টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা মামলা হয়েছে, তা জানা যায়নি। দিনভরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় তারা অভিযান চালান।
রোববার বেলা ১০টা থেকে কোড়ালিয়া রোড, মুন্সেফ পাড়া, চৌধুরী পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মুন্সেফ পাড়ার একটি বাসায় অবৈধ সংযোগ থাকায় গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করে মামলা দেয়া হয়। ৬ তলার ঐ বাসায় বেশ কয়েকটি অবৈধ সংযোগ থাকায় ঐ ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া চৌধুরী পাড়ার একটি বাসায় বিল বকেয়া থাকায়ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাদের বলা হয়েছে বকেয়া বিল পরিশোধ করে চাঁদপুরস্থ অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে গ্যাস সরবরাহ চালু করা যাবে।
তবে ঝটিকা এ অভিযানে অনেক গ্রাহক বিপদগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দেখা গেছে, যেসব গ্রাহকরা গতকাল চাঁদপুরের বাইরে ছিলেন বা যাদের গ্যাসের বিল বই দূরে ছিল তাদের গ্যাস সংযোগও গতকাল বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে বৈধ গ্যাস গ্রাহকরাও চরম দুর্ভোগে পড়েন। অন্তত ঘোষণা দিয়ে বা বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করলে বৈধ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়তেন না।
জানা গেছে, চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাসের সংযোগ রয়েছে- এমন সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পাওয়ার পর গতকাল রোববার থেকে অভিযান শুরু হয়। গতকালের অভিযানে কয়েকটি মূল পয়েন্ট থেকে মাটির নিচে থাকা গ্যাস সরবরাহের পাইপ জব্দ করা হয়। পরে ব্যবহৃত রাইজার খুলে নিয়ে লাইনগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়। যাদের বকেয়া বিল রয়েছে তাদেরও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। বকেয়া বিল পরিশোধ করে চাঁদপুরস্থ অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে তাদের গ্যাস সরবরাহ চালু করা যাবে বলে জানানো হয়।
এদিকে গ্যাস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবলের অভাবে একবারে সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তা করা হবে। তারা জানান, রাজধানী ও বিভিন্ন জেলায় বেশকিছু অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং জড়িতদের কারাদন্ড, অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সম্প্রতি বিতরণ কোম্পানিগুলোকে সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অসদাচারণের জন্যই রাজনীতিবিদদের বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই কোন বিভাগের কোন কোন কর্মকর্তা অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী বিপু।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান গ্যাসের অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদের বিষয়ে বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলমান আছে। তবে করোনা মহামারীর কারণে একটু ধীর হয়ে গেছে। সিনিয়র সচিব বলেন, আমি সব বিতরণ কোম্পানিগুলোতে নির্দেশনা দিয়েছি, আলাদা আলাদা জোনভিত্তিক টিম করে দ্রুত সব অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ করার। স্থানীয় পর্যায়ে নানা চাপ ও বাধার বিষয়ে সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, শীঘ্রই সব অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ করা হবে। কোন ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে এতদিন গ্যাস অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ সংযোগ বিস্তার লাভ করে। এখন সরকারের চাপে অভিযান পরিচালনা করেও সব লাইন উচ্ছেদ করতে পারছে না। সবত্র অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে অনেক জনবলও প্রয়োজন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। যা এখন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে চাইলে সব গ্যাস সংযোগ সমূলে উচ্ছেদ করা সম্ভব।
জ্বালানি বিষেশজ্ঞরা আরো বলেন, এখন সরকারের উচিত প্রি-পেইড করে আবাসিক গ্যাস সংযোগ চালু করা। এছাড়া সব পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ প্রি-পেইডে রূপান্তর করা। এতে জনগণ উপকৃত হবে এবং গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।
৩১ মে, ২০২১।
