প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই আমাদের প্রেরণার উৎস
…….বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ
স্টাফ রিপোর্টার
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চাঁদপুরের ৬ উপজেলায় ১০৯টি পরিবারকে ঘর প্রদান করা হবে। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐ ঘরগুলো বিতরণ করবেন।
এ উপলক্ষে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ।
এসময় তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার পূরণে ঘর নির্মাণের আগে থেকে প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে তদারকি করছেন। তারা এজন্য কঠোর পরিশ্রমও করছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হচ্ছে আমাদের প্রেরণার উৎস। কাজ করতে আমাদের কোন ক্লান্তি ও অবসরও নেই। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এসব ঘর নির্মাণ সামগ্রী মানসম্মত কিনা এবং হস্তান্তর করা যাবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা গৃহ নির্মাণ করার সময় বার-বার প্রত্যেকটি সামগ্রী যাচাই-বাছাই করে কাজ করেছি। যাদের এসব ঘর দেয়া হয়েছে সেসব ঘর রেজিস্ট্রেশন করে দেয়া হয়েছে। ওই দলিলে উল্লেখ রয়েছে কোনভাবেই এসব ঘর হস্তান্তরযোগ্য নয়।
তিনি আরো বলেন, এসব ঘর নির্মাণে কোন ত্রুটি হয়ে থাকলে তা আমরা অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখবো। দেশের কোন কোন স্থানে ঘর নির্মাণের পর যেসব দুর্ঘটনা হয়েছে, সেটি হচ্ছে মাটি ভরাটের পরপরই অনেকে গৃহ নির্মাণ করেছেন। যার কারণে মাটি ধসে নিচে নেমে যাওয়ার কারণে দেয়ালে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। আমাদের ক্ষেত্রে আমরা খুবই সতর্কতার সাথে তত্ত্বাবধান করছি।
তিনি বলেন, গৃহহীনদের তালিকা করতে গেলে আমাদের জনপ্রনিধিদের উপর নির্ভর করতে হয়। আমরা তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেছি। অনেক ভূমিহীন ও গৃহহীন রয়েছে যাদের তালিকায় নামও আছে। কিন্তু তারা তাদের নিজ বর্তমান স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র যেতে চায় না। তিনি এ ধরনের কয়েকটি উদাহরণ টেনে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সমাজে হতাশাজনক অনেক কাজও রয়েছে। এসব কাজের মাঝে ভালো কাজও আছে। সেসব কাজগুলো আপনারা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবেন। তারা যেন ভালো কাজে উৎসাহ পায়। নতুন প্রজন্ম অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ে।
মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলার নির্মিত ঘরের ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দাউদ হোসেন চৌধুরী।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারন সম্পাদক রহিম বাদশা, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রোটা. কাজী শাহাদাত, দৈনিক ইত্তেফাক ও বিটিভি জেলা প্রতিনিধি গোলম কিবরিয়া জীবন, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার বিএম হান্নান, দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শরীফ চৌধুরী, দৈনিক চাঁদপুর খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস ও ডিবিসির জেলা প্রতিনিধি তালহা জুবায়ের প্রমুখ।
এ সময় চাঁদপুর জেলা সদরে কর্মরত জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. ইমতিয়াজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা শাহনাজ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল মোর্শেদসহ আরো অনেকে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী দ্বিতীয় পর্যায়ে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ঘর পাবে ১৭টি, কচুয়া উপজেলায় ২টি, মতলব উত্তর উপজেলায় ৩০টি, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১০টি, শাহরাস্তি উপজেলায় ৩০টি এবং হাইমচর উপজেলায় ২০টি।
এর আগে চাঁদপুর জেলায় প্রথম পর্যায়ে গৃহ প্রদান করা হয় ১১৫টি পরিবারকে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৪০টি, কচুয়া উপজেলায় ১৫টি, মতলব উত্তর উপজেলায় ৫টি, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৫টি, শাহরাস্তি উপজেলায় ৫টি, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ২৫টি এবং হাইমচর উপজেলায় ২০টি।
আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫৩ হাজার ৩শ’ ৪০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে ৬৬ হাজার ১শ’ ৮৯ জনকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে বর্তমানে চাঁদপুর জেলায় ‘ক’ শ্রেণির গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা ১হাজার ৬শ’ ১৭টি। চাঁদপুর জেলায় প্রথম পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১শ’ ১৫ টি এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৪৫টিসহ মোট ১শ’ ৬০টি পরিবারকে পূনর্বাসন করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা ২য় পর্যায়ে একক গৃহের ২০ জুন ২০২১ এর মধ্য ৯৩টি এবং পরবর্তীতে ১৬টিসহ মোট ১শ’ ৯টি পরিবারকে এবং ৩শ’ ২৫টি পরিবারকে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সর্বমোট ৪শ’ ৩৪টি পরিবারকে পূনর্বাসন করা হচ্ছে।
এসব পরিবারকে ১ টাকা সালামিতে ২ শতক জমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে। কবুলিয়ত, রেজিস্ট্রশন, নামজারী ও জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন, সনদপত্র প্রদানসহ সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক ডিসিআর’র ১ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি একক গৃহের আয়তন ৩শ’ ৯৫ বর্গফুট। দুইকক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা গৃহে একটি টয়লেট, একটি রান্নাঘর ও একটি ইউটিলিটি স্পেস রয়েছে।
চাঁদপুর জেলায় প্রথম পর্যায়ে গুচ্ছগ্রাম হতে ৮৫টি আশ্রয়ন হতে ২০টি ও দুর্যোগ হতে ৩০টি অর্থাৎ মোট ১শ’ ৩৫ টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ হতে ১শ’ ৯টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। মাটি ভরাট করার জন্য এ জেলায় ২য় পর্যায়ে মোট ১০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানান, যে খাস জমি উদ্ধার করে এ জেলায় পূনর্বাসন করা হয়েছে অবশিষ্ট ‘ক’ শ্রেণির পরিবারকে আগামি ডিসেম্বরের মধ্যে পূনর্বাসনের জন্য সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পূনর্বাসনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জায়গা নির্বাচন ও মাটি ভরাটসহ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের বেতনের টাকায় চাঁদপুর জেলায় ২টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সংস্থা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর জেলায় ১শ’ ১৮টি ঘর করবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২টিসহ মোট ২৫টি ঘর ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় যে নিষ্কন্টক কৃষি খাস জমি অপ্রতুল হলেও জেলার ৪ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে ২টি করে ৮টি উপজেলায় নিষ্কন্টক খাস জমি খুঁজে বের করাসহ এ সংক্রান্ত সব কাজ মনিটর করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
২০ জুন, ২০২১।
