চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ও বই মেলা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

১৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি সপ্তাহব্যাপী বই মেলা



স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় তা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষণগণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামি ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপিত হবে। সেই সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও একুশে বই মেলা পালন করবো। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চাঁদপুর কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে বই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামি ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী এই বই মেলা করা হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রচনা লিখন প্রতিযোগিতা করা হবে। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এই প্রতিপাদ্যের উপর রচনা লিখন ও সেমিনার করা হবে। সপ্তাহব্যাপী একুশে বই মেলা ঢাকা থেকে প্রকাশনা স্টল আনার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সড়কে আলপনা ও পৌরসভা কর্তৃক শহরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বর্ণমালা লিখে সাঁটানো হবে। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি ও নাটিকাও মঞ্চায়িত হবে। নতুন বাজার অঙ্গীকার পাদদেশ, শহীদ মিনার চত্বর, শপথ চত্বর, ইলিশ চত্বর, চিত্রলেখা মোড়, নতুন বাস স্ট্যান্ড, বর্ণমালা ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি সব স্কুল-কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিজ নিজ উপস্থিতিসহ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে শহীদ দিবসের সাথে সংগতিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রভাত ফেরি করার নির্দেশনা দেয়া হয়। জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি-আধা সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে সঠিক মাপের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন, স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই পাঠ, স্বরচিত ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা করতে হবে। বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাত, মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপসনালয়ে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় প্রার্থনা, শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন সংগীত, আবৃত্তি ও সুন্দর হাতের লেখার প্রতিযোগিতা করার জন্য জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার নির্দেশ দেয়া হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শহীদ পাটওয়ারী, জেলা স্কাউটস কমিশনার অজয় কুমার ভৌমিক, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, কবি ও লেখক ডা. পীযুষ কান্তি বড়ুয়া প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার এম.এ ওয়াদুদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিব উল্লাহ করিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিডি খলিলুর রহমান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তপন সরকার, সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের সদস্য সচিব ইয়াহিয়া কিরনসহ আরো অনেকে।