চাঁদপুরে আবহাওয়া অফিস ঘিরে বহুতল ভবন নির্মাণ

সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। সরকারি বিধিনিষেধ না মেনে এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আবহাওয়া অফিস সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া নিয়ে শঙ্কাথেকে পাঠানো নোটিশও ভবন মালিকরা রিসিভ করছে না। এতে ভবিষ্যতে প্রথম শ্রেণির চাঁদপুরে আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরকার তথা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের স্বার্থে আবহাওয়া আইনের চতুর্থ অধ্যায়ের ১৫(২) ধারায় উল্লেখ রয়েছে আবহাওয়া অফিসের সীমানা প্রাচীর থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে সুউচ্চ স্থাপনা ৩০-৩৫ ফুটের উপরে নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ চাঁদপুর শহরের পালপাড়ায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারটি ধীরে-ধীরে ভবনের আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আবহাওয়া ভবনের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে ৫ তলাবিশিষ্ট ভবন। পশ্চিম পাশে নতুন করে আরও একটি ভবন উঠছে।
ইতোমধ্যে চতুর্থতলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। পঞ্চমতলার জন্য পিলার তৈরি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় চাঁদপুর আবহাওয়া অফিস থেকে বিভিন্নভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালেও বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সৈয়দ আবুল হাসানাৎ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।
শুধু তাই নয়, ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাঁদপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের অফিসার ইনচার্জ শাহ্ মুহাম্মদ শোয়েব চিঠি দিয়ে বেশ কয়েকটি দপ্তরকে জানান। অপরদিকে সর্বপ্রথম চলতি বছরের দুই আগস্ট শহরের গাঙ্গুলী পাড়ার রোজিনা আক্তারকে নোটিশ করা হয়। এ বিষয়ে চাঁদপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের অফিসার ইনচার্জ শাহ্ মুহাম্মদ শোয়েব বলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় জেলা চাঁদপুরে সঠিক আবহাওয়া পূর্বাভাস পেতে হলে সঠিক আবহাওয়া উপাত্ত সংগ্রহ করা অত্যাবশ্যক।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, এ সংক্রান্ত একটি চিঠির অনুলিপি আমরা পেয়েছি। সরাসরি আমাদের কোনো চিঠি ইস্যু করা হয়নি। তারপরও আমরা একটি তদন্ত টিম গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, আমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চাঁদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। মূলত এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১।