শাহ আলম খান
চাঁদপুর জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাসছে করোনা সংক্রমণ। মে মাসের তুলনায় জুন মাসে আক্রান্তের হার বেড়েছে ৬%। জুন মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ৬৫৫জন। গত ২৯ জুন জেলায় করোনার নমুনা পরীক্ষায় ৮৮ জনের। এর মধ্যে ৪২ জনের করোনা সনাক্ত হয়। আক্রান্তের হার ৪৭.৭২%।
বুধবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত জেলার ৮ উপজেলায় করোনার স্যাম্পল সংগ্রহ হয়েছে ৩,০৩২টি। প্রজিটিভ রিপোর্ট ৬৫৫টি। আক্রান্তের হার ২১.৬০%। মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৪৫০জন। সনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬৮.৭০%। জুন মাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ জন। মৃত্যুর হার ০.৬১%। আইসোলেশন রোগী সংখ্যা ৩৮২জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী ৪৭৪ জন।
মে মাসে করোনার স্যাম্পল সংগ্রহ হয় ৩,৫২৭টি। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১৬জন। আক্রান্তর হার ছিলো ১৪.৬২%। সুস্থ হয় ৭০৮ জন রোগী। সনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ছিলো ১৩৬.৮২%। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫জন। মৃত্যুর হার ০.৯৬%।
সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, চাঁদপুরের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। সারাদেশে করোনার যে অবস্থা, সেখানেও চাঁদপুরে বেড়ে যাচ্ছে। গত মে মাসে চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্তের হার ছিলো ১৪.৬২%। চলতি মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত আক্রান্তের হার ২১.৬০%। গত মাসে মৃত্যুবরণ করেছে ৫ জন এবং এই মাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪জন।
তিনি বলেন, মৃত্যুর হার কমলেও সারাদেশের গড় মৃত্যুতে আমাদের চাঁদপুরে বেশি। বর্তমানে আইসলোশনে ভর্তি আছে ২৫জন। ২৯ জুন চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্তের হার ৪৭.৭২%। এভাবে যদি আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে তাহলে চাঁদপুরে আমাদের হাসপাতালে রোগীদের সিটের সংকট ও অক্সিজেন দিতে সমস্যা হবে।
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর জেলা করোনার যে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, এ থেকে বের হয়ে আসতে স্বাস্থবিধি মেনে চলতে হবে। সরকার যে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে তা কঠোরভাবে আমাদের পালন করতে হবে।
ভ্যাকসিন সম্পর্কে তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলায় প্রথম চালানে ৭২ হাজার ডোজ ও পরবর্তী চালানে আসে ৩৯ হাজার ডোজ। এসব টিকা সম্পূর্ণভাবে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের কাছে ৯ হাজার ডোজ টিকা রয়েছে। এখান থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের টিকা দিচ্ছি। জনসাধারণকে এখনো দেয়া শুরু করেনি। পাশাপাশি আরো টিকা আসবে। জুলাই মাসে টিকা আসলে আমরা সর্বসাধারণের মাঝে টিকা কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।
০১ জুলাই, ২০২১।
