চাঁদপুরে ইমাম হাসান লঞ্চ ডুবে যাওয়ার উপক্রম, মাস্টারসহ আটক ৩

টিআই রেজাউল করিম সুমনের খামখেয়ালিপনা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ ইমাম হাসান অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ ইমাম হাসান লঞ্চটি আটক করে। পাশাপাশি লঞ্চের মাস্টার কবির হোসেন, সুকানি পারভেজ ও কেরানি আল আমিনকেও আটক করা হয়। এছাড়া লঞ্চ চলাচলের সময়সীমাও বাতিল করা হয়েছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) রেজাউল করিম সুমনের গাফিলতিতে এ ঘটনা ঘটে বলে যাত্রীরা জানান। চাঁদপুর থেকে যেসব লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকা-বরিশালসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করে এসব লঞ্চ চাঁদপুর ঘাট থেকে ছাড়ার সময় টিআই (বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) ছাড়পত্র না দিলে চলাচল করতে পারে না।
জানা যায়, ইমাম হাসান লঞ্চটি দিনের বেলায় ৫০৫ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করার অনুমতি রয়েছে আর রাত্রিকালীন ৩৪৫ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করার অনুমতি রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর ঘাট থেকে প্রায় ২ হাজার যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র টিআই রেজাউল করিম সুমন। চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে ইমাম হাসান লঞ্চটি ছাড়লে কয়েক গজ যেতে না যেতেই পিছনের অংশটা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। যাত্রীদের ডাক-চিৎকারে পরবর্তীতে লঞ্চটি ঘাটে ভিড়ানো হয়। নৌ-পুলিশ, নৌ ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে ছুটে এসে যাত্রীদের নিরাপদে পন্টুনে নামিয়ে দেয়।
আরো জানা যায়, লঞ্চটি ঘাট থেকে ছাড়া হয় তখন টিআই রেজাউল করিম সুমন ঘাটে উপস্থিত না থেকে মোবাইলে লঞ্চ ছাড়ার জন্য লঞ্চের মাস্টারকে নির্দেশ দেন। নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন শিকদার ঘটনাস্থলে আসলে টিআই রেজাউল করিম সুমন বলেন, স্যার লঞ্চের ধারণক্ষমতা ছিল ৩৪৫ জন যাত্রী। কিন্তু লঞ্চে যাত্রী ছিল ১৭শ’ থেকে ১৮শ’ জন। আমি নিষেধ করেছি, তারা শুনেনি।
লঞ্চে থাকা যাত্রী লক্ষ্মীপুরের কাঞ্চন গ্রামের আ. রহিম, গুণরাজদীর সফিক হোসেন, হাইমচরের জহির, ফরিদগঞ্জের সুমন, রূপসার হালিমা বেগম বলেন, লঞ্চে যাত্রী ছিল প্রায় ৩ হাজারের বেশি।
ঘাট থেকে লঞ্চটি ছাড়লে পেছনের অংশ ডুবে যাচ্ছিল এবং লঞ্চটি হেলে-দুলে যাচ্ছিল। যাত্রীদের ডাক-চিৎকারে নৌ-থানার এসআই নাছির উদ্দীনসহ পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘাটে ছুটে গিয়ে ইমাম হাসান লঞ্চটিকে ঘাটে ভিড়িয়ে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন। পরে রাত ৮টায় এমভি মিতালী ও ঈগল-৯ লঞ্চযোগে যাত্রীদের স্ব-স্ব গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ ইমাম হাসান লঞ্চটিকে আটক করে। লঞ্চের পাশাপাশি মাস্টার কবির হোসেন, সুকানি পারভেজ ও কেরানি আল আমিনকেও আটক করা হয়। পরে লঞ্চ চলাচলের সময়সীমা বাতিল করা হয়।
এ ঘটনায় নিজের দোষ ঢাকতে টিআই রেজাউল করিম সুমন বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে। যে টিআই ঘাটের দায়িত্বে থাকেন তার অনুমতি ছাড়া কোন লঞ্চ চাঁদপুর ঘাট থেকে অন্য গন্তব্যে ছেড়ে যেতে পারে না।
গত কয়েকদিন আগে ছারছীনা দরবার শরীফের মাহফিল চাঁদপুর ঘাট থেকে বেশ কয়েকটি রিজার্ভ লঞ্চ ছেড়ে যায়। তা থেকে রেজাউল করিম সুমন ৪/৫শ’ টাকার স্থলে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে বেশ কয়েকটি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

২১ মার্চ, ২০২২।