চাঁদপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা


স্টাফ রিপোর্টার
নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে গায়ের ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যা করলেন চাঁদপুর সরকারী মহিলা কলেজের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিতা রানী সরকার। গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের ১০নং ওয়ার্ড কদমতলা এলাকার পোদ্দার বাড়ির ভাড়াবাসায় এ ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত শহরের কদমতলা এলাকার কাজল পোদ্দারের বাড়ির নিচ তলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটটিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বৈজাতলী গ্রামের ফার্মেসী ব্যবসায়ী সবুজ হাওলাদার বসবাস করে আসছেন। তার ভাড়াকৃত বাসায় স্ত্রী ও শালিকা বসবাস করতেন। এ বাসায় থেকেই মৃত মিতা রানী সরকার গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় চলতি বছরের ২রা এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চলতি মাসের ১১ তারিখে মিতা রানী সরকারের বড় বোন কবিতা রানী সরকার বাপের বাড়ি বেড়াতে গেলে সেখানে মৃত মিতা রানী সরকারও যায়। মৃত মিতা রানী সরকারের গ্রামের বাড়ি কচুয়া উপজেলার মাছিমপুর উত্তর বাজারে, তার পিতার নাম হরিমোহন সরকার। গত মঙ্গলবার বিকেলে বোনের বাসায় কিছু বই রেখে আসছে বলে গ্রামের বাড়ি থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে ফ্ল্যাটটিতে ঢুকে। পরদিন অর্থাৎ গতকাল বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টায় বাড়ির মালিক ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়লে ভিতর থেকে কোন সাড়াশব্দ না পাওয়ায় প্রথমে প্রতিবেশী পরবর্তীতে স্থানীয় কাউন্সিলরকে বিষয়টি অবহিত করেন। স্থানী কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে এসে একইভাবে দরজায় কড়া নেড়ে চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে স্থানীয় কাউন্সিলর বিষয়টি চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করে। মডেল থানার অফিসার ইচনার্জ নাসিম উদ্দিনের নিদের্শে এসআই আওলাদ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেন। তিনিও একই কায়দায় চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শাবাল দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঢুকে দেখেন সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেছিয়ে মিতা রানী সরকার ঝুলে আছেন।
এসআই আওলাদ হোসেন মৃত মিতা রানী সরকারের দেহ থেকে প্রচুর পরিমান রক্ত ঝরায় তাৎক্ষনিক মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করলে অফিসার ইনচার্জ নাসিম উদ্দিন বিষয়টি পিবিআইকে জানান। সংবাদ শুনে পিবিআইয়ের ইন্সফেক্টর কবির আহমেদ ও আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।
এব্যাপারে পিবিআই ইন্সফেক্টর কবির আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা সদর মডেল থানা থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মিতা রানী সরকারের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। পরবর্তীতে ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আমরা ওই রুম থেকে একটি হ্যান্ডনোটও পেয়েছি যাতে লেখা ছিল আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। তবে তদন্ত করে জানা যাবে এটি মিতা রানী সরকারের হাতের লেখা কি না।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার এসআই আওলাদ জানান, আমরা ঘরের দরজা শাবাল দিয়ে ভেঙ্গে ঢুকে দেখতে পাই মিতা রানী সরকার ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে, লাশের দেহে রক্তক্ষরনের কারণে আমি বিষয়টি ওসি স্যারকে ফোন করে বলি এবং ওসি স্যার পিবিআইকে খরব দিয়েছে বলে আমাদেরকে নিশ্চিত করেন। এ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত সদর মডেল থানা একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।