মতলব দক্ষিণে প্রেমিকার মামলায় প্রেমিক শ্রীঘরে

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

মাহফুজ মল্লিক
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এক প্রেমিকের (২১) বিয়ের প্রলোভনে প্রেমিকা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় প্রেমিকার মামলায় প্রেমিক মেহেদী হাসান এখন শ্রীঘরে। গতকাল বুধবার বিকেলে মেহেদী হাসানকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মেহেদী হাসানের বাড়ি মতলব উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মতলব দক্ষিণ উপজেলার ওই মেয়ে ঢাকার শ্যামপুর এলাকায় ফুফুর বাড়িতে থেকে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেখানে চাকরি করা অবস্থায় ফেসবুকের মাধ্যমে মেহেদী হাসান নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি মালয়েশিয়ায় লেখাপড়া শেষ করে গত ১৬ নভেম্বর দেশে ফিরেন। বাড়িতে আসার পর মেহেদীর সঙ্গে ওই তরুণীর যোগাযোগ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ২৭ জানুয়ারি বিকেলে লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে বাড়ি আসার উদ্দেশে এক সঙ্গে রওনা দেন ওই তরুণ-তরুণী। তারা ওই লঞ্চের একটি কেবিন ভাড়া করেন। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে ওই তরুণীটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে ওই তরুণ। এরপর গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তাঁরা দুজন বাড়ি থেকে চাঁদপুর হয়ে লঞ্চে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে ভাড়া করা কেবিনে ওই তরুণ আগের মতই একাধিকবার জোরপূর্বক তরুণীটিকে ধর্ষণ করেন। বাড়ি আসার পর গত ফেব্রুয়ারি জুড়ে ও চলতি মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত তরুণীটির বসতঘরে গিয়ে প্রায় প্রতি রাতে ওই তরুণ বহুবার তাকে ধর্ষণ করেন। তরুণীটি দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে বিয়ে করার জন্য ওই তরুণকে প্রস্তাব দেন। কিন্তু তার প্রস্তাবে রাজি হননি ছেলেটি।
মেয়েটি সাংবাদিকদের জানান, ফেইসবুকের মাধ্যমে মেহেদী হাসানের সাথে তার পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষন করা হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি তার বাবা-মা ও খালাকে জানালে তারা ওই তরুণের ভাই ইউপি সদস্য আবু তাহের ও মামা আলমগীর হোসেনকে জানান।
পরে তার ভাই ও মামা বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাঁদপুর শহরের ষোলঘর এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে তরুণীকে ডেকে নেন। সেখানে বিয়ের পরিবর্তে আড়াই লাখ টাকার ঘটনাটি রফাদফার প্রস্তাব করা হয়। মেয়েটির অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছেলে বহুবার তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর সে প্রতিশ্রুতি ভুলে ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে তার পরিবারের মানসম্মান ও তার নিজের ভবিষ্যৎ নষ্টের পথে।
এ ব্যাপারে মতলব দক্ষিণ থানার ওসি স্বপন কুমার আইচ বলেন, ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটি নিজেই বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে মেহেদী হাসানসহ ৪ জনকে আসামি করে থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। মেহেদী হাসানকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বুধবার বিকেলে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।