চাঁদপুরে এডিসি জামানের বিদায় সংবর্ধনা

স্থানীয় পত্রিকা দেখলেই বুঝা যায় জামানকে চাঁদপুরের মানুষ কত ভালোবাসে……জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ

শাহ্ আলম খান
বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ।
তিনি অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় পত্রিকা ও ফেসবুক দেখলেই বুঝা যায় জামানকে চাঁদপুরের মানুষ কত ভালোবাসে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমার পরিবার মনে করি। যখন আমি জামানের কাজ দেখলাম, তখন থেকে পরখ করলাম। চাঁদপুরে মানুষ তাঁকে খুব ভালোবাসে। তাঁকে কোন দায়িত্ব দেয়া হতো সে জানতো কিভাবে সে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ত্রান বিতরণের কাজ তাকে দিলাম, সেই আমাদের কাজের অনুকরণ সারা বাংলাদেশ করেছে। আমি নিশ্চিন্তে ছিলাম তাকে দায়িত্ব দিয়ে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের শুধু আইন দিয়ে নয়, পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে হয়। তাঁকে কোন দায়িত্ব দিলে সেই কাজ খুব সুন্দরভাবে করে ফেলতো। তাঁর এ কাজের জন্যে চাঁদপুরবাসীও পছন্দ করতো। মানুষের যে চাহিদা পূরণ করতে পারায় সে মানুষের মনের মাঝে প্রবেশ করতে পেরেছে। আমি শুধু পরিকল্পনা করে দিতাম, সে সেটা পরিপূর্ণভাবে করে দিতো। জামান জানে কাকে কিভাবে কি করে মনের মাঝে জায়গা করতে হয়। জেলা প্রশাসনের কাজ করলে হৃদ্যতার সম্পর্ক হয়। দোয়া করি সে তাঁর আশা যেন পূরণ করতে পারে।
বিদায়ী সংবর্ধিত অতিথি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বক্তব্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আজ এ অমূল্য একটি বিদায় দিয়েছেন তা দেখে সত্যিই আমি মুগ্ধ। আমি চেষ্টা করেছি আমার দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করার। আমি কোনো অফিসের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকিনি, মাঠে নেমেও কাজ করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যেকেই কাজ করি জেলা প্রশাসকের ছত্রছায়ায়। সমন্বয়ের আসলে কোন বিকল্প নয়। শুধু আমলা নির্ভর হলে চলবে না, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মতোও কাজ করা দরকার। চেয়েছি সেইরকমভাবে কাজ করার। যার দরুন মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে কাজ করা। আমি কাজটাকে ভালোবেসেছি। কাজটাকে ভালোবাসলে সব কাজই সহক হয়ে যায়। সম্পর্কটা যদি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার হয়, তাহলে কাজ আদায় করা যায়। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়া মানে সবকিছু পাওয়া।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুনের পরিচালনায় অনুভূতি প্রকাশ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দাউদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অসীম চন্দ্র বনিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইমতিয়াজ হোসেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা শাহনাজ স্মৃতি, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান মানিক, আবিদা সিফাত, এআরএম জাহিদ হাসান, উচ্চমান সহকারী (নেজারত শাখা) ভোলানাথ নন্দী, উচ্চমান সহকারী জিয়াউদ্দিন বাবুল প্রমুখ।
অশ্রুসিক্ত পরিবেশে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, প্রতিটি বিদায়ই অত্যন্ত বেদনাবিধুর। আজ সর্বত্র খবর হয়ে গেছে আমরা কেমন একজন অফিসার হারাচ্ছি। একজন সরকারি কর্মকর্তা যে এত ভালোবাসা পাচ্ছেন এটা চাকরি জীবনের বিরাট পাওয়া। জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মাঠ পর্যায় কিভাবে চলতে হয় তিনি তা ভালোভাবে জানেন। তিনি আসলে কাউকে বকা দিতেন না। তিনি সবসময়ই ভালোবাসা দিতেন। তিনি ছিলেন কর্মচারীবান্ধব একজন কর্মকর্তা। কাজের প্রতি আগ্রহ ছিলো অন্যরকম। এছাড়া আমাদের কাজের প্রতি আগ্রহ সঞ্চার করতে তিনি আমাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতেন। যখনই উনার কাছে কোন কাজ নিয়ে গিয়েছি তিনি সুন্দর পরামর্শ দিয়ে কাজটি সমাধান করার চেষ্টা করতেন। উনার কাছে শেখার অনেক কিছু আছে। তিনি আমাদের হৃদয়ে চিরদিনই থাকবেন।
বিদায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সব কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিদায়ী অতিথিকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

২৯ জুন, ২০২১।