স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন লিকুইড অক্সিজেন প্লান্টে স্থাপনকৃত ট্যাংকিতে লিকুইড লোড করা হচ্ছে। সোমবার (২ আগস্ট) রাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বহুল প্রত্যাশিত লিকুইড অক্সিজেন এসে পৌঁছেছে। আগামি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে
মেডিকেল অক্সিজেন উৎপাদন শুরু হবে। এরপর সোমবার রাত অথবা মঙ্গলবার যে কোন সময় এখান থেকে রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া শুরু হবে।
গতকাল সোমবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে জরুরি তরল গ্যাস সরবরাহের একটি গাড়ি এসে সদর হাসপাতালে স্থাপনকৃত অক্সিজেন প্লান্টের সাড়ে ৮ হাজার ধারণক্ষমতা ট্যাংকিতে সাড়ে ৩ হাজার মিলিলিটারের লিকুইড অক্সিজেন লোড করেন স্পেক্ট্রা কোম্পানীর কর্মীরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিব-উল করিম, সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ, চাঁদপুর সদর হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদৌলা রুবেল।
স্পেক্ট্রা কোম্পানির জরুরি তরল গ্যাস নিয়ে আসা কর্মীরা জানান, হাসপাতালে স্থাপনকৃত ট্যাঙ্কিতে লিকুইড অক্সিজেন লোড করতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগবে। লিকুইড অক্সিজেন লোড করার পর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সোমবার রাত থেকেই লিকুইড অক্সিজেন উৎপাদন শুরু হবে। পরীক্ষামূলকভাবে রাত অথবা সকাল থেকে রোগীদের অক্সিজেন সেবা দেওয়া শুরু হবে। পুরোদমে চালু হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গত কয়েক দিন ধরে চলা অক্সিজেনের হাহাকার থাকবে না।
স্পেক্ট্রা কোম্পানির কর্মীদের রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিকুইড অক্সিজেন বহন করে নিয়ে আসা গাড়িটি থেকে আনলোড করে হাসপাতালে স্থাপনকৃত ট্যাঙ্কিতে লোড করতে দেখা যায়।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিব উল করিম জানান, এটি খুবই আনন্দের খবর যে অবশেষে অক্সিজেন প্লান্টের জন্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষার লিকুইড অক্সিজেন আমাদের হাসপাতালে পৌঁছেছে। এটি টান্সফার করার পর দুই ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালে করোনা ইউনিটে অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩/৪ মাস আগে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারের লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ শুরু করা হয়। শ্রমিকরা গত দুই/আড়াই মাস ধরে টানা কাজ করেছেন। লিকুইড অক্সিজেন স্থাপনের ভবন এবং অক্সিজেন সংরক্ষণ করার ট্যাংকির কাজও সম্পন্ন করা হয়। একই সাথে বেকওয়াম প্লান, কমরেস্ট ইয়ার প্লান ও অটোমেটিক মেনিহোল কন্ট্রোল বোর্ডসহ অক্সিজেন প্লান্টের যত প্রকার কাজ রয়েছে তা এক দেড় মাস আগেই সম্পন্ন করা হয়। মূল প্ল্যান্টটিতে তৈরি হবে ছয় হাজার লিটারের অক্সিজেন গ্যাস। যা অক্সিজেনে রূপান্তর হয়ে ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারে দাঁড়াবে।
চাঁদপুরে করোনা ভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ ও অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কুমিল্লা থেকে প্রায় প্রতিদিনই চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন আনতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। যার কারণে চাঁদপুরেই স্থাপন করা হয়েছে এই লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্ল্যান্টটি বসানোর কাজে অর্থায়ন করছে ইউনাইটেড ন্যাশন ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন্স ইমার্জেন্সি ফান্ড (ইউনিসেফ) এবং বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
০২ আগস্ট, ২০২১।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- চাঁদপুরে এসেছে বহুল প্রত্যাশিত লিকুইড অক্সিজেন
