স্টাফ রিপোর্টার
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশের সরকার নির্দেশিত সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করার কারণে স্বল্প পরিসরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করেছে। শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, সকাল ৮টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাঙালি জাতির জীবনের একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এ দেশ, এদেশের মানুষ হাজার বছর ধরে বিদেশী হানাদারদের কবলে পড়েছে। অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়েছিলো, কিন্তু তারা মাথা নোয়ায়নি। শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু হয়ে ৫৪’র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনের পর ‘৬৬ তে ৬ দফার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছিলেন। এরপর ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো। যার ফলশ্রুতিতে ৭০’এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিলো। তাই আমরা সবাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ করি মহামারী করোনাভাইরাস থেকে আল্লাহ সবাইকে হেফাজত।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় এই মুজিবনগর সরকার শপথগ্রহণ করে। বিশ্ব মানচিত্রে যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিলো, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল একটি ঐতিহাসিক ধাপ পেরিয়েছিলো বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা শপথ নিবো। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে যারা মানুষ হত্যা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ধর্মব্যবসায়ীদের রুখে দেওয়ার জন্য।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়র আ. রব ভূঁইয়া, আব্দুর রশীদ সর্দার, যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. জসিম উদ্দিন পাটোয়ারীসহ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে সরকার নির্দেশিত সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করার কারণে চাঁদপুরে স্বল্প পরিসরে, যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়। সীমিত কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১৮ এপ্রিল, ২০২১।
