করোনার প্রকোপ অব্যাহত
ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউন। লকডাউনের প্রথম দিনে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো থাকলেও বর্তমানে তা সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে করে সড়কে জনসমাগম বাড়ছে প্রতিদিনই। প্রথমদিনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি। গত দু’দিনে অনেকেই রাস্তায় নেমে আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা গেছে। আবার ছোট-ছোট যানবাহনও বাড়ছে সড়কগুলোতে। লকডাউন মানাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা সীমিত করায় এমন চিত্র দেখা গেছে চাঁদপুরের সর্বত্র।
এছাড়া চাঁদপুর শহরে জনসাধারণের মাঝে খুব একটা সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। চলাচলকারীদের মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকাসহ অন্যান্য বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না তারা। বিশেষ করে ইফতারের পর শহরের অলি-গলিতে কিশোর-তরুণদের আড্ডা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। রাত ১২টার পরও তাদের আড্ডা চলে সমানতালে। সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারের আদেশ মান্য করার প্রবণতা ভেঙে আড্ডাবাজিতে মেতে উঠলে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কতটুকু লকডাউন কার্যকর করতে পারবেন- তা ভেবে দেখার বিষয়।
এদিকে চাঁদপুর ও উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিনা কারণে ঘর থেকে বের হলেই পুলিশের জেরার মুখে পরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। আর শহরজুড়ে মাঝে-মাঝে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অপরদিকে সারা দেশে করোনার প্রকোপ অব্যাহত আছে, গত দু’দিনই মৃত্যুর রেকর্ড ছিলো শতাধিক করে। যদিও সংক্রমণ কিছুটা কম ছিলো এ দু’দিনে। গতকাল শনিবার আক্রান্তের পরিসংখ্যান ছিলো ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪শ’ ৭৩ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১শ’ ১ জনের। আর চাঁদপুরে গতকাল ১১ জনের করোনা শনাক্ত রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮জন, হাইমচরের ১জন ও মতলব দক্ষিণের ১জন রোগী সনাক্ত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১শ’ ৩ জন।
তবে লকডাউন অব্যাহত থাকায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ছে। অনেকেই কাজ হারিয়েছে। আবার নতুন করে এ জেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান হতে হাজার-হাজার কর্মহীন মানুষ কাজ হারিয়ে নিজ এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া শহরের বস্ত্র ব্যবসায়ীসহ হরেক পণ্যের ব্যবসায়ীরাও রয়েছে বিপাকে। তাদের দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় রয়েছেন। শহরের দোকানগুলো বন্ধ থাকলেও মফস্বলের বাজারগুলোতে কমবেশি খোলা থাকতে দেখা গেছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় লকডাউনের ৪র্থ দিন গতকাল শনিবার মাস্ক ব্যবহার না করা ও দোকান খোলা রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করে। উপজেলার গাজীপুর বাজার ও পূর্ব চান্দ্রা বাজারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এছাড়া কচুয়া উপজেলায়ও লকডাউনে দোকান খোলা রাখায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে জরিমানা আদায় করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একি মিত্র চাকমা।
অপরদিকে গত শুক্রবার ফরিদগঞ্জ থেকে ইজিবাইক নিয়ে যাত্রীসহ চাঁদপুর শহরে আসায় ৩ জনকে আটক করে পুরাণবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। আটক তিনজনকে দীর্ঘ সময় লকআপে রাখা হয়েছিলো বলে জানা গেছে। তার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্যে এসেছিলো বলে আটকদের স্বজনরা জানায়।
গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চলমান এই লকডাউন আগামি ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনা করা লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানসহ আসন্ন ঈদ সম্মুখে চলমান লকডাউন সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষদের ত্রাণসহ আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি উঠছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারিভাবে কোন প্রণোদনা প্রদান করা হবে কিনা তা এখনো জানা যায়নি।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংক্রমণ যেহেতু সামাজিক ট্রান্সমিশনের জন্য হচ্ছে তাই দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ রেখে পর্যায়ক্রমে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কর্মমুখরতা ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি। তবে চলমান ১ সপ্তাহের লকডাউন বাস্তবায়নে প্রথম দিনের মতো প্রশাসনের তৎপরতা জরুরি বলে জানিয়েছেন অনেকে।
১৮ এপ্রিল, ২০২১।
