চাঁদপুরে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপন

সমাজে বাস করার জন্য কমিউনিটি পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ
………….. মো. মাজেদুর রহমান খান
স্টাফ রিপোর্টার
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেছেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। এখানে কথা থাকে পুলিশ কোন জনগণের বন্ধু? পুলিশ ওই জনগণেরই বন্ধু হয়, যারা শান্তিপ্রিয়। সমাজে যারা অপরাধমূলক কাজ করেন তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজন হলে তাদের সামনে বন্দুকের নল থাকবে। কারণ তারা এই সমাজের মানুষ নয়। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট পুলিশ লাইনস্ েকমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আপনাদের মনে রাখা দরকার বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বাড়ি চাঁদপুর। সমাজে বাস করার জন্য কমিউনিটি পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিটি পুলিশিং এমন একটি সমিতি যেখানে একত্রিত হয়ে সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। এখনে অনেক স্থানে পুলিশের সেবা পৌঁছে না। যে কারণে কমিউনিটি পুলিশিং খুব বেশি দরকার হয়ে পড়ে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আজকের আয়োজন অনেক বড় হওয়ার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে ছোট করতে হয়েছে। যে কোন জায়গায় কতগুলো অনুশাসন প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। ১৮২৯ সালে রবার্ট পিল নামে একজন সমাজে অপরাধ প্রতিরোধে জনসাধারণের সুব্যবস্থা চালু করেন। ময়মনসিংহে ১৯৯২-৯৪ সালে টাউন ডিফেন্স নামে প্রথম একটি দল গঠিত হয়। এটাই ছিলো কমিউনিটি পুলিশিংয়ের প্রথম সোপান। এটিকে মডেল নিয়ে তারপরে সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি আরো বলেন, জনগণের সেবার স্বার্থেই এই কমিটিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম। আমরা প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ শনিবার এই দিনটি উদযাপন করি। চাঁদপুর অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপ্রিয় এলাকা। চাঁদপুরে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভিত্তি অনেক শক্তিশালী। যা আমি দেখে মুগ্ধ। আমি পর্যায়ক্রমে সুন্দরভাবে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সাজিয়ে নিব। যাতে করে পরবর্তীতে কার্যক্রম আরো সমৃদ্ধ হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, নিষ্ঠা ও সুন্দরভাবে কাজ করলে পুলিশ ব্যবস্থাপনাকে আরো শক্তিশালী করবে। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থা তৈরী করতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভূমিকা থাকবে।
পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে কমিউনিটি পুলিশিং চাঁদপুরে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত যে কার্যক্রমগুলো করেছেন তার সফলতা সবার সামনে তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সব কাজে জনগণকে সম্পৃক্ত না করতে পারলে কোন গোষ্ঠী উন্নতি লাভ করতে পারেন না। দেশের টেকসই উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের গৃহিত এসডিজির যে লক্ষ্যমাত্রা, তা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করলে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবো। শুধুমাত্র কমিউনিটি পুলিশিং নয়, সবাই নিজ-নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও সমাজের জন্য করতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, মানুষের শান্তি রক্ষায় আমরা কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আমরা ভাগ করতে পারি না। যার যার যোগ্যতায় এই ব্যবস্থাপনাকে সহযোগিতা করতে হবে। একসময় চাঁদপুরের লঞ্চঘাট থেকে যাত্রীরা নিরাপত্তার ভয়ে সকাল হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘাটেই অবস্থান করতেন। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থান নেই। রাতেও চাঁদপুর শহর নিরাপদ।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি আমাদের শহরে কিশোর গ্যাং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের যে কোনভাবে প্রতিহত করতে হবে। কারণ আমরা চাঁদপুর শহরকে শান্তির শহরে হিসেবে রাখতে চাই। এই শহরে হানাহানি, সন্ত্রাস, গুজব ও জঙ্গি থাকবে না। গুজব ও সরকারি বিরোধী কার্যক্রম থেকে সবাইকে বিরত থাকার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
ডা. পিযুষ কান্তি বড়ুয়ার পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ডা. এসএম শহীদ উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক সুফি খায়রুল আলম খোকন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর।
শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পুলিশ লাইন জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুস সালাম ও গীতা পাঠ করেন সাংবাদিক বিমল চন্দ্র দে।
আলোচনা সভার আগে বেলুন ও শান্তির প্রতিক পায়রা উড়িয়ে অতিথিবৃন্দ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। আয়োজিত সব কর্মসূচিতে কমিউনিটি পুলিশিং শহর ও সদর অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।