প্রবাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে করোনাভাইরাস ঠেকাতে বিদেশফেরত সব প্রবাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখছে জেলা প্রশাসন। দেশের প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর জেলায় এখনো করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত না হলেও প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চাঁদপুরকে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে ইউরোপ থেকে বিশেষ করে ইতালি থেকে বেশ কিছু প্রবাসী এ জেলায় অবস্থান করায় ঝুঁকির আশঙ্কা বেড়ে গেছে।
এছাড়া এ জেলার সাথে নৌ-যোগাযোগ থাকায় প্রবাসীরা সারাদেশের সাথে নৌ-পথে ভ্রমণ করায় সাধারণ মানুষ অনেকটাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে প্রবাসীদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখছে। প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত রাখতে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ পর্যায়ে তাদের চিহ্নিত করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে গত শুক্রবার চাঁদপুরে বিদেশফেরত এক প্রবাসীর বিয়ে বন্ধসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা জানান, গত শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নে প্রবাসী এক ব্যক্তির বিয়ে বন্ধ করে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এছাড়া বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করায় তাকে সতর্ক করে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
অপরদিকে জনসমাগম এড়াতে মতলব উত্তর উপজেলার শাহ্ সোলেমান ওরফে লেংটা ফকিরের বাৎসরিক ওরশ ও মেলা বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জামাল হোসেন মেলা বন্ধের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। ৩০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলার বেলতলী এলাকায় এই ওরশ ও মেলা হওয়ার কথা ছিল। লেংটা ফকিরের বাৎসরিক ওরশ ও মেলা বন্ধ রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওরশের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় একশ’ বছর ধরে মতলব উত্তরের বেলতলীতে শাহ্ সোলেমান ওরফে লেংটা ফকিরের মাজার ঘিরে বাৎসরিক ওরশ ও মেলা চলে আসছিলো।
চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে এবং জনসমাগম ঠেকাতেই ওরশ বন্ধের এমন উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরো জানান, রাজধানীর সদরঘাট থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর কেবিনে প্রবাসী যাত্রীদের অবস্থান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নৌ-পথে প্রবাসী যাত্রীরা যাতে লঞ্চের কেবিনেই অবস্থান করে সে বিষয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, গত দু’সপ্তাহে বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন এমন পৌনে দুই শ’ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এছাড়া চাঁদপুরে করোনা ভাইরাসের শঙ্কারোধে জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে ১শ’ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। অতিরিক্ত হিসেবে প্রত্যেক উপজেলায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং আক্রান্ত হয় এমন রোগীদের জন্য ১শ’ শয্যার আলাদা বিশেষ ইউনিট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ৩০টি, বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে ২১টি এবং ৭ উপজেলায় সাতটি করে মোট ৪৯টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে এখন থেকে সরকার করোনাভাইরাস ঠেকাতে বিদেশ ফেরত সব যাত্রীর হাতে সিল মারা হচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল, সিলেটের এমএজি ওসমানী ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের স্থল বন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে এই সিল মারার কাজ করা হচ্ছে।
এই সিলে বিদেশফেরত যাত্রীকে কত দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে সেই তারিখ উল্লেখ রয়েছে। সিলের প্রথম অংশে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘প্রাউড টু প্রোটেক্ট বাংলাদেশ’। এরপর ‘হোম কোয়ারেন্টিন আনটিল’ লিখে কোয়ারেন্টিনে থাকার সব শেষ তারিখ উল্লেখ করা রয়েছে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ ধরনের সিল দেয়ার কাজ অনেক দেশেই করা হচ্ছে। এই সিলের কালি অমোচনীয়। এই সিল থাকলে কেউ বাড়ি ফিরে গেলেও সহজে বাইরে বের হতে পারবেন না। আর বাইরে গেলেও তাকে সহজে শনাক্ত করা যাবে।
