
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ উপজেলার দু’টি বাড়িতে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটের আগুনে ২০টি ঘর পুড়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুনে ১০টি বসতঘর, ৮টি রান্নাঘর ও ১টি কাচারী ঘরসহ মোট ১৯টি ঘর ও ঘরে থাকা মালামাল পূড়ে সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয় এবং ১টি বসতঘর আংশিক পুড়ে গেছে এবং অপর একটি বসতঘর ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গতকাল শনিবার দুপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মুকুন্দসার গ্রামের সূত্রধর বাড়িতে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং এদিন সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ উপজেলার সীমন্তাবর্তী দেবপুর গ্রামের বেপারী বাড়িতেও বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মুকুন্দসার গ্রামের সূত্রধর বাড়ির অগ্নিকাণ্ডস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- ওই বাড়ির মৃত গৌরাঙ্গ সূত্রধরের ছেলে পরিতোষ সূত্রধর, অমূল্য সূত্রধর, অমর কৃষ্ণ সূত্রধর ও ভাসান চন্দ্র সূত্রধর এবং মৃত নরেন্দ্র সূত্রধরের ছেলে উত্তম চন্দ্র সূত্রধর।
রাজারগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মিজি জানান, বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটের আগুনে মুকুন্দসার গ্রামের সূত্রধর বাড়ির পরিতাষ সূত্রধর, অমূল্য সূত্রধর, অমর কৃষ্ণ সূত্রধর ও উত্তম চন্দ্র সূত্রধরের মোট ৫টি বসতঘর, ৪টি রান্নাঘর ও ঘরে থাকা মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
তিনি বলেন, এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই বাড়ির ভাসান চন্দ্র সূত্রধরের রান্নাঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে করে ওই পরিবাগুলোর বসতঘর, রান্নাঘর এবং ঘরে থাকা, টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ সব কিছু পুড়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়।

রাজারগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া বলেন, আগুনে চারটি পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।
মতলব দক্ষিণের ফায়ার সার্ভিসের স্টেশান অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এতে ৫টি বসতঘর পুড়ে যায় এবং একটি ঘরে যেন আগুন না লাগে, সেজন্য স্থানীয়রা ঘরটি ভেঙ্গে ফেলে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন।
অপরদিকে এ দিন (শনিবার) সকালে চাঁদপুর উত্তর ফায়ার সার্ভিসের দমকল কর্মীরা দেবপুর গ্রামের বেপারী বাড়ির অগ্নিকাণ্ডস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- ওই বাড়ির সুলতান বেপারীর ছেলে জামাল হোসেন, আবুল কালাম, কামাল হোসেন, কালু বেপারীর ছেলে বিল্লাল হোসেন ও আউয়াল বেপারী এবং সাত্তার বেপারীর ছেলে ইমান হোসেন।
রামপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. আল মামুন পাটওয়ারী জানান, বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটের আগুনে দেবপুর গ্রামের বেপারী বাড়িতে ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ, ১টি আংশিক এবং ৫টি রান্নাঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবাগুলোর বসতঘর, রান্নাঘর এবং ঘরে থাকা, টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বর্ণালংকারসহ সব কিছু পুড়ে যায়।
তিনি বলেন, আগুনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলে তিনি জানান। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংবাদকর্মীদের জানান।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর উত্তর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশান অফিসার মো. লিটন আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। এতে করে ৫টি পরিবারের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এদিকে দু’টি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পরনের পোশাক ছাড়া কিছ্ইু রইলো না। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় তাদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এ সময় কয়েক সহস্রাধিক উৎসুক জনতা অগ্নিকান্ডস্থলে ভিড় করে। আগতদের দাবি সরকার যেন- ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
