চাঁদপুরে করোনা সংক্রমণরোধে তদারকি নেই

আরো এক সপ্তাহ বিধিনিষেধের লকডাউন, অক্সিজেন সংকটে দেশ

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে করোনা রোগী চিহ্নিত ও সংক্রমণরোধে দৃশ্যমান কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রোগীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। চলমান লকডাউন অবস্থায় অনেক করোনা রোগীই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন শহরময়। যাদের অধিকাংশেরই কম-বেশি করোনা উপসর্গ ছিলো। আবার কারো প্রথমে পজিটিভ, পরে নেগেটিভ রিপোর্ট ছিলো। কিন্তু তারা আইশেলেশন কিংবা হোম কোয়ারাইন্টেন করেনি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারী না থাকায় রোগীদের অনেকেই উপসর্গ নিয়ে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়িয়েছেন। এমন পরিস্থিতি চাঁদপুরে করোনার সংক্রমণ হঠাৎ করেক গুণ বৃদ্ধি পেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
এদিকে সোমবার (২৬ এপ্রিল) সারা দেশে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩শ’ ৬ জন। সারাদেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ১শ’ ৫০ জনের। চাঁদপুরে গত রোববার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ১শ’ ২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে শনিবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৪শ’ ৩ জন। জেলায় রোববার পর্যন্ত মারা গেছেন ১শ’ ১৪ জন।
এদিকে চলমান বিধিনিষেধের লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর কথা নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি গতকাল বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান, কোভিড-১৯ বিস্তার রোধে চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ তার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সীমিত বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। পরে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ। এটি বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। যদিও শপিং মল খোলাসহ বেশকিছু বিষয়ে বিধিনিষেধের শর্ত শিথিল করেছে সরকার।
অপরদিকে দেশের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই অক্সিজেনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াতে প্রতিদিন ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৬৫ টন করে। গত ছয় সপ্তাহে চাহিদা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। মূলত ভারত থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় এ সংকটের মাত্রা বেড়েছে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে দেশ ভয়াবহ অক্সিজেন সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। দেশের মোট অক্সিজেন চাহিদার বড় একটি অংশ আসতো ভারত থেকে। এই সরবরাহও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। দেশে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে এরই মধ্যে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট আরো বেড়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশে অক্সিজেনের দৈনিক ঘাটতি এখন ৬৫ টন। ছয় সপ্তাহে চাহিদা বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, অক্সিজেন পেতে নতুন তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর করোনা সংক্রমণ অনেক বেশি মাত্রায় বেড়েছে। এছাড়া করোনার নতুন ধরন (স্ট্রেইন) অতি মাত্রায় সংক্রামক। ফলে রোগীদের ফুসফুস মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকেরই অল্প সময়ের মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে বেশিসংখ্যক রোগীকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। আর গুরুতর অসুস্থদের জীবন বাঁচাতে অক্সিজেন সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা জরুরি। বেশিরভাগ রোগীই তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন। তাদের হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় করোনা রোগীদের চিকিৎসায় দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন দৈনিক অক্সিজেনের চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১শ’ ৮০ টন। এর মধ্যে বহুজাতিক অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘লিন্ডে বাংলাদেশ’ উৎপাদন ও সরবরাহ করছে ৯০ টন। স্পেক্ট্রা নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান দৈনিক গড়ে সরবরাহ করছে ২৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। তারপরও ঘাটতি থাকছে দৈনিক প্রায় ৬৫ টন।

২৭ এপ্রিল, ২০২১।