করোনাকালে অতিরিক্ত গ্রাহক চাপ
ইলশেপাড় রিপোর্ট
বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রকোপের কারণে সারা দেশে চলছে লকডাউন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হতে পারছে না। পাশাপাশি বন্ধ ছিল আন্তঃজেলা সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগ। এমন পরিস্থিতি জীবনযাত্রায় পড়ছে কম-বেশি প্রভাব। চলতি লকডাউনের প্রাথমিক পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও পণ্য আনা-নেওয়াসহ অফিসিয়াল চিঠিপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আদান-প্রদান অব্যাহত আছে আগের মতোই। তবে প্রাইভেট কুরিয়ার সার্ভিসগুলো ইতোমধ্যে সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
আর এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে চাঁদপুরে সেবা প্রদানকারী এই কুরিয়ার সার্ভিসগুলো গ্রাহকদের জিম্মি করে ইচ্ছেমতো অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি চিঠি-ডকুমেন্টসহ যে কোন সার্ভিসেই নির্ধারিত অর্থে গ্রাহক সেবা দিচ্ছেন না। তারা তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে আসছেন। গ্রাহকরাও অনেকটা জিম্মি হয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে অনেকটাই বাধ্য হয়ে। কিন্তু যেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ার সার্ভিসের ডকুমেন্ট পৌঁছানোর কথা সেখানে ৪/৫ দিন পর গ্রাহকরা তা’ হাতে পাচ্ছে।
তবে গ্রাহকরা বলছে, বৈশ্বিক মহামারীকালীন সময়ে সবাই যখন নিজ-নিজ স্থান থেকে সবাইকে সহযোগিতা করা চেষ্টা অব্যাহত রাখছে, ঠিক তখনি আর্থিক হয়রানি করছে কেবল কুরিয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা চাহিদার কয়েকগুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নিলেও কাক্সিক্ষত সেবা দিচ্ছে না গ্রাহকদের।
এসব কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে চাহিদার বিপরীতে অতিরিক্ত জনবল না থাকায় তারা সেবা দিতে পারছে না। যেখানে একদিনেই ডকুমেন্ট গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর কথা সেখানে সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গ্রাহক পাচ্ছে না তার কাক্সিক্ষত চিঠি কিংবা ডকুমেন্ট ও পার্শেল।
গ্রাহকদের মতে, চাঁদপুরে সুন্দরবন, এসএ পরিবহন, কন্টিনেন্টাল ও জননীসহ বেশ কয়েকটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান তাদের খামখেয়ালিপনার মাধ্যমে প্রতিদিনই তাদের ইচ্ছেমতো অর্থ আদায় করছে। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেও তারা নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকের হাতে পণ্য কিংবা ডকুমেন্ট পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে না।
চাঁদপুরে সেবা প্রদানকারী কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মরত স্টাফরা বলছে, গত মাসে সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষ অতি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কিংবা পণ্য এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নিতে পারেনি। যার কারণে সবাই তখন কুরিয়ার সার্ভিসমুখী হচ্ছিলো। ফলে আমাদের উপরও অনেক চাপ বাড়ছে।
কর্তৃপক্ষ জনবলসহ মালামাল পরিবহনে যানবাহন বৃদ্ধি না করায় আমরাও ঠিকমতো এক স্টেশন হতে আরেক স্টেশনে গ্রাহকের পণ্য বা ডকুমেন্ট পাঠাতে পারছি না। স্টাফরা কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ যানবাহন ও কম জনবলকেই দুষছেন। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে তারা জেলার ম্যানেজারদের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকেই মূলত দায়ী করছেন।
নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকী না থাকায় প্রাইভেট এসব কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে মাদক পাচারের মতো পুরোনা অভিযোগ তো আছেই। বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারীকে পুঁজি করে তারা ১০ টাকার পার্সেল ৫০ টাকা আর ২০ টাকার পার্সেল ১শ’ টাকায় নিলেও এক সপ্তাহে তারা গ্রাহকদের হাতে তা’ পৌঁছাতে পারছে না। তবে এই দেরিতে পৌঁছানোর বিষয়টা বেশি হয়েছে লকডাউন চলাকালীন প্রথম পর্যায় থেকে ঈদ পর্যন্ত। গ্রাহকরা ডকুমেন্টসহ বিভিন্ন মালামাল পৌঁছাতে কুরিয়ারের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঐ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মাঝে-মাঝে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো অভিযান পরিচালনা করলে হয়তো কিছুটা হলেও গ্রাহকদের আর্থিক হয়রানি কমে আসবে। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানগুলো পার্শ্বেল চার্জ চার্ট উন্মুক্ত স্থানে সাঁটাতেও বাধ্য হবে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো ভুক্তভোগীদের সেবা প্রদানে কতটা আন্তরিক হবেন শেষ পর্যন্ত- তাই এখন দেখার বিষয়।
০৩ জুন, ২০২১।
