চাঁদপুরে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কাপড়

এস এম সোহেল
কেজিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি হয়, তা সবার জানা। কিন্তু কেজি দরে কাপড় বিক্রি হয় তা অনেকেই মনে হয় প্রথম শুনলেন। হ্যাঁ, এটাই সত্য। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তা হলেন চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডের ইসলামিয়া প্লাজার মাহি ক্লথ স্টোরের মালিক মো. মনসুর সরকার। কেজিতে কাপড় ক্রয় করে খুশি অনেক ক্রেতা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন গার্মেন্টেস থেকে সংগ্রহ করেন চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডের ইসলামিয়া প্লাজার মাহির ক্লথ স্টোরের মালিক মনসুর সরকার। ডিজিটাল পাল্লায় ওজন হিসেবে নেওয়া হচ্ছে ক্রেতার কাছ থেকে দাম। মিটার বা গজে নয়, রীতিমত ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লায় ওজনে বিক্রি হচ্ছে সবধরনের কাপড়। প্রকারভেদে কেজিতে এসব কাপড়ের দাম নেয়া হচ্ছে ৪৩০ থেকে ৫০০ টাকা করে।
এখানে পাওয়া যাচ্ছে- বিছানার চাদর, বালিশের কভার, পর্দার কাপড়, পাঞ্জাবী, শার্ট-প্যান্ট পিসসহ যাবতীয় সুতি কাপড়। দোকানে প্রতি কেজি কাট পিস কাপড় ৪৩০ ও এসি হোমটেক্স কাপড় ৫০০ টাকায় বিক্রয় হয়। ৪৩০ টাকার ১ কেজি কাপড়ে একটি বেডসিট, ২টি বালিশের কবার ও ১টি কোল বালিশের কভার হয়। আর ওজন হিসেবে ২শ’ থেকে আড়াইশ’ গ্রামে পাঞ্জাবী বা সার্ট পিস পাওয়া যাবে। যার মূল্য হবে ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকা। তাই ক্রেতার কাছে এ দোকানটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে সকাল-সন্ধ্যা দোকানগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম দেখা যায়। গজের কাপড় ওজনে বিক্রি খবর ছড়িয়ে পড়লে নারী-পুরুষ মাঝে কৌতুহল জাগে। একটু দেখার জন্য হলে নারী-পুরুষরা দোকটিতে যাচ্ছে।
পদ্মা ব্যাংকে চাকরি করেন মো. মিজানুর রহমান। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি বিভিন্ন লোক মুখে শুনেছি ব্যাংকের পাশেই কেজিতে কাপড় বিক্রি হয়, বিশ্বাস হয়নি। আজ তা নিজ চোখে এসে দেখলাম। অনেক কাপড় আছে। দেখে ভাল লাগলো।
সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া বেগম জানান, আমি বড় একটি কাপড় পছন্দ করেছি। যার ওজন ১ কেজি ৭শ’ গ্রাম হয়েছে। যা দিয়ে ২টি বেডসিট, ৪টি বালিশের কভার ও ২টি কোল বালিশের কভার হবে। যার দাম এসেছে ৭শ’ ৫৩ টাকা। মার্কেট থেকে ২টি বেডসিট, ৪টি বালিশের কভার ও ২টি কোল বালিশের কভারের কাপড় কিনতে গেলে দাম ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা আসতো। এখানে এসে আমার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। আমি অনেক খুশি।
দোকানের মালিক মনসুর সরকার জানান, আমি ৩ মাস যাবত ব্যবসাটি চালু করেছি। ব্যবসাটি দেওয়ার পর এখন চাহিদা অনেকটা বেড়েছে। এই কাপড়গুলো দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে কেজি হিসেবে ক্রয় করি। আর সেজন্যেই আমি ক্রেতাদের সুবিধার্থে কেজি দরেই বিক্রি করি। প্রতি কেজিতে আমার ৪০ থেকে ৫০ টাকা লাভ হয়।

৩০ আগস্ট, ২০২২।