চাঁদপুরে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় দিন উদযাপন

ধর্ম যার যার, উৎসব কিন্তু সবার
……..মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল

শাহ্-আলম খান
চাঁদপুরে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মধ্য দিয়ে খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড় দিন উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চাঁদপুর খ্রিস্টিয়ান মিশন স্কুলে বড় দিনের উৎসব উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল।
পৌর মেয়র তাঁর বক্তব্য বলেন, দীর্ঘ হাজার বছরের ঐতিহ্য থেকে যে স্লোগানটি আমরা ধারণ করি, আমরা বলি ধর্ম যার যার উৎসব কিন্তু সবার। আমাদের এই ছোট্ট শহরে আমি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি ১০ অক্টোবর নির্বাচনে এবং সেই নির্বাচনে আপনারা সবাই আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, আমার জন্য কাজ করেছেন, আমাকে ভোট দিয়েছেন আমি প্রথমে আপনাদের সেই সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আপনারা আমার উপর অনেক প্রত্যাশা রেখেছেন। সেই প্রত্যাশা জায়গাটুকু পূরণ করার জন্য আমার চেষ্টা থাকছে যে, আমি আমার মেয়াদকালে আমি কষ্ট করে সারাদিন যতটুকু সম্ভব হচ্ছে মানুষের সাথে সময় দিয়ে আপনাদের প্রত্যাশার মাত্রাটুকু যেন পূরণ করতে পারি।
পৌর মেয়র আরো বলেন, আমাদের পৌরসভার সীমিত সামর্থ্যের মধ্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আপনাদের কাক্সিক্ষত পৌরসভা গড়ার জন্য যে পরিমাণ ব্যবস্থা থাকা দরকার, অর্থের যোগান থাকা দরকার সেটি হয়তোবা আমরা সামনের দিনগুলোতে সক্ষম হবো কিছু একটা ব্যবস্থা করতে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা সফল হই। কারণ হচ্ছে আমাদের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে আগামি দিনের চাঁদপুর। আমি পৌর পরিষদ এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে চাঁদপুরের সব খ্রিস্টান ধর্মের লোকজনকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং আমি আমাদের সংসদ সদস্য, প্রিয় নেত্রী ডা. দীপু মনি এমপি’র পক্ষ থেকে তার অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাটুকু আপনাদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছি।
কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ (স্কুল শাখার) ইংরেজি শিক্ষক লিন্ডা লিসার পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির চাঁদপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, সহ-সভাপতি রোটারিয়ান গোপল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী, বিশিষ্ট সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোটারিয়ান মো. মাহবুবুর রহমান সেলিম, মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মৃদুলা রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর দাস, ব্যাপটিস্টের ফাদার এন কে দাস গুপ্ত প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজ থেকে দুই সহস্রাধিক বছর আগে জেরুজালেমের কাছাকাছি বেথলেহেম নগরীর এক গোয়ালঘরে জন্মেছিলেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। ৩৩ বছরের স্বল্পস্থায়ী জীবনে তিনি মানুষকে শুনিয়েছেন শান্তির বাণী, ভালোবাসার কথা। হিংসা-দ্বেষ, পাপ-পংকিলতা থেকে মানুষকে মুক্ত করাও ছিল তার প্রবর্তিত ধর্মের অন্যতম মূল কথা।
আলোচকরা আরো বলেন, তার শান্তির বাণী শাশ্বত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য। মতবাদ প্রচারের সময় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন যিশু। কিন্তু কোনো নির্যাতন-নিপীড়নই তাকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। মানুষকে জয় করার হাতিয়ার ছিল তার সংযম ও সহিষ্ণুতা। বর্তমান যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সংঘাতময় এ পৃথিবীতে যিশুর বাণী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। যিশু বিশ্বাস করতেন ঈশ্বরের শক্তিতে। বাইবেলে বর্ণিত আছে- ‘আমি সব মন্দ আত্মাকে তাড়াই ঈশ্বরের শক্তিতে এবং তোমরা যা আমার কাছ থেকে শোনো তা আমার নয় বরং সেসব কথা পিতার, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন’।
তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বের হিংসা ও পারস্পরিক অশ্রদ্ধাবোধ প্রকৃত অর্থে আত্মারই সংকট। মন্দ আত্মা মানুষকে তাড়িয়ে ফিরছে নেতিবাচকতার দিকে। মানুষের মধ্যে যিশু প্রস্তাবিত পরিশুদ্ধ আত্মার প্রতিস্থাপন ছাড়া এ সংকট থেকে মুক্তির উপায় নেই। যিশু সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ দেয়ার কথাও শুনিয়েছেন। আধুনিক গণতন্ত্রের মর্মকথাও তা’ই। সভ্যতার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, শুধু খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের জীবন ও দর্শনেই যিশুর প্রভাব পড়েনি, পুরো মানবসভ্যতাই কিছু না কিছু মাত্রায় প্রভাবিত হয়েছে।
আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে সান্টাক্লজ কেক কাটেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কালেক্টর স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মিসেস সিনডী মায়ার, ওয়াইডব্লিউসিএ’র শিক্ষক পপি দাসগুপ্ত, পাপড়ী বর্মন, লিলি চৌধুরীসহ আরো অনেকে।
২৭ ডিসেম্বর, ২০২০।