চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধন

কারেন্টজালের উৎপাদন স্থান চিহ্নিত করে নির্মূল করতে হবে
…………মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

এস এম সোহেল
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহমান বলেছেন, জেলেদের কারেন্টজাল দিয়ে মাছ ধরার একটি বিষয় রয়েছে। এ বিষয়ে নিয়ে আমি ব্যাক্তিগতভাবেও খুবই ব্যাথিত। পাগলেও তো নিজের বুঝ বুঝে। এই কারেন্টজাল দিয়ে সবেমাত্র ভূমিষ্ঠ হওয়া মাছের সন্তান তাকে যদি ধরেন, তাহলে এই মাছ তো বড় হতে পারবে না। বড় মাছ আমরা আর কোনদিন চোখে দেখবো না। তাই এই কারন্টেজাল সমূলে উৎপাটিত হওয়া দরকার। কারেন্টজালের যে উৎস, যেখান থেকে এই জাল তৈরী হয়, ওই জায়গাটাকে চিহ্নিত করে নির্মূল করতে হবে। ওই কারেন্টের জাল যেখান থেকে তৈরী হয়, ওই খোয়াড়কে ভেঙে-চুরে চুরমার করে দিতে হবে। আর এটি প্রশাসনকেই করতে হবে। এটি বন্ধ করতে পারলে কোন জেলে এই জাল দিয়ে নদীতে নামার সুযোগ পাবে না। সুতরাং এই বিষয়টি আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে ১১ থেকে ১৭ মার্চ জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজ আমরা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম, ইলিশকে নিরাপদ রাখবার জন্য, বিশেষ করে মা ইলিশকে বাঁচাবার জন্য এবং জাটকা নিধন বন্ধের জন্যই চাঁদপুরে এসেছি। অভিযানকালীন সময়ে আমরা যদি মা ইলিশ রক্ষা না করি, তাহলে আমরাই (জেলেরা) বিপদে পড়বো। মা ইলিশ রক্ষার জন্য বড় ভূমিকা জেলেদের। দেশের সর্বশেষ আপডেট হচ্ছে ৫ লাখ ৭১ হাজার মৎস্যজীবীদের তালিকা আছে। আমি এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বলবো- আপনারা এই তালিকাটি সঠিকভাবে প্রণয়ন করেন এবং এই মৎস্যজীবীকার সাথে যারা জড়িত তাদের একটি নামও যেন এই তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেই ব্যবস্থা আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ভরসাস্থল হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের মমতাময়ী মা।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতে বড় একটি চ্যালেঞ্জ এবং বড় একটি হুমকির মোকাবিলা করে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আজ তিনি এ দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার স্থিতিশীল পর্যায় নিয়ে এসেছেন। আপনারা সবাই জানেন ৭ জানুয়ারি একটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনের আগে অনেক নিন্দুকেরা এবং তাদের বিদেশী প্রভূরা বলেছিল এ দেশে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের মুখে ছাই দিয়ে শেখ হাসিনাই প্রমাণ করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার অধীনে এবং কেবলমাত্র তার অধীনেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। গত ৭ জানুয়ারির দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচনই তা প্রমাণ করে।
তিনি বলেন, এই দেশ বাঁচাতে হলে, শেখ হাসিনাকে বাঁচতে হবে। আর শেখ হাসিনাকে বাঁচতে হলে এই দলকে বাঁচতে হবে এবং সু-সংগঠিতভাবে বাঁচতে হবে। শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে আমরা সব ধরনের সংকট ও দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, আজ আমরা যে জাটকা রক্ষা সপ্তাহ পালন করছি। আমাদের ইলিশের উৎপাদন ক্ষমতা যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, এর থেকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তুলনা করি, তাহলে আজ নিঃসন্দেহে বলতে পারি প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশের উৎপাদন বাংলাদেশের অর্জিত হয়েছে। তা কেবলমাত্রই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমার মাটি আমার মানুষ, আমার পাট আছে, আমার সম্পদ আছে এবং আমার ইলিশ আছে। আর এই ইলিশেই হতে পারে দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় উপাদান। যথার্থভাবে আজ থেকে বহুদিন আগে ১৯৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে এ কথা বলেছিলেন। যার বাস্তব ও প্রয়োগিক ফলাফল ধীরে ধীরে এই জাতি আজ উপভোগ করছে।
মন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের বলতে চাই-বঙ্গবন্ধু এই দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য নিরন্তন কাজ করেছেন। ১৯৮১ সালে তার কন্যা শেখ হাসিনা বাবা-মা হারানোর ব্যাথা ও অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে এই বাংলার মাটিতে এসেছেন। সেদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্দেশে বলেছেন, আমার পিতা ঘাতকের বুলেটে জীবন দিয়ে গেছেন। তার বুকের তাজা খুন এই পদ্মা-মেঘনা ও যমুনার কালো পানি লালে লাল হয়েছে। আজ আমি এসেছে একটিমাত্র স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। যে স্বপ্ন আমার বাবা বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন। যে দেশের মানুষের মুখে তিনি হাসি দেখবেন। আর এই বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার জন্যই আমার বাবার সেই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবার জন্যই আজ এই দেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেছি এবং আপনাদর মাঝে ফিরে এসেছি। সেই থেকে তার নিরন্তন যাত্রা।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে তলাবিহীন ঝুড়ি সরকার, সেই বাংলাদেশ কেন আজ মেট্রো রেলের মালিক হবে। সেই বাংলাদেশ কেন আজ আমাদের সাথে চ্যালেঞ্জ করে নিজের অর্থে পদ্মা-সেতু নির্মাণ করবে। এই বাংলাদেশ কেন আজ এলিভেটেট এক্সপ্রেস নির্মাণ করবে, কেন আজ বঙ্গবন্ধু ট্যানেল দিয়ে সেখানে গাড়ি চলবে। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে কেবলমাত্র হিংসা থেকে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু এই বাংলার লাখো কোটি মানুষের সমর্থন আজ শেখ হাসিনাকে সাহস যুগিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আজকের এই মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় নাই। আজ বাঙালি দুই বেলা মাছে-ভাতে থাকে না। এই বাংলাদেশের মানুষ আজ তারা একটি গর্বিত জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য নতুন প্রস্তুতি নিচ্ছে শেখ হাাসিনার নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ইলিশ এমন সম্পদ, যে সম্পদ দিয়ে আমি বিদেশি মুদ্রা অর্জন করবো এবং তৃতীয় রপ্তানিমুখী পণ্য হিসেবে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দিবো।
তিনি বলেন, আমরা বছরে দুই থেকে তিনবার টিআর-কাবিখা দিয়ে থাকি। সেখানে একটিবার যদি জেলেদের জন্য কিছু অংশ দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারি অর্থাৎ জেলেদের উপকরণ দিতে পারি, সেটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আমরা আনবো। আর যেসব জেলেদের বাড়ি নেই, ভূমি নেই তাদের তালিকা তৈরী করেন। সেই ব্যবস্থা হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী এই কার্যক্রম চালু রেখেছেন।
তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র নৌ-পুলিশ, ডিসি এবং এসপিকে দিয়ে জাটকা রক্ষা হবে না। আমাদের নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। এই জাটকা রক্ষা সপ্তাহ গুরুত্বের সাথে পালন করতে হবে। আমাদের এই জাটকা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে ভরা যৌবনের চাঁদপুর আবার ইলিশের যৌবনে ভরে যাবে এই কথা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন, সেখানে এই ইলিশের উৎপাদন সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এটি আমি আশা এবং বিশ্বাস করি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর।
সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত ও জেলা মৎস্যজীবী লীগ নেতা শাহ আলম মল্লিক।
অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, মৎস্য দপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, মৎস্যজীবী নেতাসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে শহরের মোলহেড থেকে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে মেঘনা নদীতে নৌ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ শত-শত মৎস্যজীবী অংশগ্রহণ করেন।
জেলেদের খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর দাবি সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনির
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে বলতে হয়, জেলেদের মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় যে সহায়তা দেয়া হয় সেটি যেন আরো বাড়ানো হয়। এটি ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা ৪০ কেজি করেছেন। আর যারা নিবন্ধিত জেলে আছেন, তাদের তুলনায় খাদ্য সহায়তা ১০ ভাগ কম আসে, কিন্তু এটি যেন সবার জন্যই আসে।
গতকাল সোমবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে ১১ থেকে ১৭ মার্চ জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জেলেদের যে ধরনের উপকরণ দেয়া হয়, আমি মনে করি এখন সময় এসেছে সেগুলোর উপযোগিতা বিচার বিশ্লেষণ করার। অর্থাৎ তাদের সেলাই মেশিন, বকনা বাচুর দেয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেগুলোর সাথে আর্থিক সহায়তা ও ঋণের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনকালীন সময়ে আমি নদী উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে যখন গিয়েছি, তখন মৎস্যজীবী ভাইদের মূল দাবি ছিল আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমি বলবো- নিশ্চয়ই সবাই করেন না, কোন কোন নৌ পুলিশ সদস্য আমাদের মৎস্যজীবী ভাইদের হয়রানি করেন। আবার সব মৎস্যজীবীরাও যে ১৬ আনা আইন মানেন, তাও কিন্তু নয়। কারণ আমরা দেখছি গত ১১ দিনে যে পরিমাণ জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় আটক হয়েছেন, আপনারা যদি আইন মানতেন, তাহলে এই পরিস্থিতি হতো না। আইন শৃংখলা বাহিনী তে আপনাদের বাড়ি থেকে আটক করেনি, নদী থেকে আটক করেছেন।
ডা. দীপু মনি বলেন, নদীতে এখন আপনাদের নামবার কথা নয়। আমরা যেমন আপনাদের দিকটা দেখবো, সরকার যখন আপনার প্রয়োজনের দিকটা দেখবে, তেমনি আপনার ভবিষ্যতের স্বার্থে আইন ও নিয়ম মানতে হবে। সরকার যেসব নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন সেগুলো মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগেও চাঁদপুরের বাজারে জাটকা দেখেছেন অনেকে। নিষেধাজ্ঞার সময়গুলো কিন্তু গবেষণার ভিত্তিতে করা হয়। গবেষণা ছাড়া কিন্তু সরকারের মাথায় আসেনি ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা ধরা বন্ধ থাকবে। এটি দীর্ঘদিনের গবেষণার ফলাফল। কোন সময়ে আমাদের এই নদীতে জাটকার বিচরণ বেশি থাকে, সেই সময়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেক কিছুর পরিবর্তন এসেছে। গবেষকরাই বলতে পারবেন কি কারণে ফেব্রুয়ারির শুরুতে জাটকা পাওয়া যাচ্ছে। এই সময় যদি পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয়, গবেষকরা বললে সরকারি সেটিও করবে। যখন জাটকা ধরা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু জেলেরা মাছ ধরবে। সেখানে যদি জাটকা চলে আসে, তখন সেটি বিক্রি হয়, তা প্রতিরোধ করা প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়। এটিও আমাদের বুঝতে হবে এবং আইনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
ডা. দীপু মনি বলেন, বেআইনী জাল ব্যবহারের ফলে মৎস্যজীবী ভাইদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, এই বেআইনি জাল যারা উৎপাদন করেন তাদের কয়জনকে ধরা হয় আমি জানতে চাই। আমার জেলে পল্লী ও ইলিশ গ্রামগুলোতে অভিযান চালানো হয়। আমি জানতে চাই মুন্সীগঞ্জ, নারায়নগঞ্জে এসব জালগুলো উৎপাদিত হয়, সেসব কারখানায় কতগুলো অভিযান চালানো হয়েছে, কতজন অবৈধ জাল উৎপাদনকারীকে আটক করা হয়েছে এবং সাজা দেয়া হয়েছে। আমাদের কিন্তু আসল গোড়ার জায়গাটা ধরতে হবে। বেআইনি জাল যদি উৎপাদনই না হয়, তাহলে এই জাল ব্যবহারও হবে না। উৎপাদন বন্ধ হলে ব্যবহার এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। অতএব যার যেখানে সুযোগ রয়েছে সেখান থেকে এই জাল উৎপাদন বন্ধে কাজ করবো।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু যে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি বলেছেন মৎস্যই আমাদের একটি বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। আজ তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাই হয়েছে। আমাদের মৎস্য এখন বড় রপ্তানি পণ্য। আমরা আশাকরি এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরো বড় সুযোগ রয়েছে। আমিষ উৎপাদনে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি তাই নয়, তা এখন আমরা রপ্তানি করতে পরি। তার অর্থ হচ্ছে আমাদের খাদ্যের অভাব যেমন মিটেছে, এখন পুষ্টির অভাবটাও এই মন্ত্রণালয়ের মধ্য দিয়ে পুরো জাতির পুষ্টির চাহিদাও মিটছে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের যে সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে নদীর নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে, নদী দূষণ হচ্ছে। এইগুলো দূর করতে হবে। নদীর নাব্যতা বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, নদীর দূষণ বন্ধ করতে হবে। চাঁদপুর-শরীয়তপুর যে সেতুর প্রস্তাব, সেটি আমরা বিকল্প প্রস্তাব করেছি। সেখানে সেতু হলে আসলেই নদী বিপন্ন হবে। সম্ভব হলে সেখানে যেন ট্যানেল কর হয়। এই বিষয়টি আমরা প্রধানমন্ত্রী সমীপে আমরা তুলে ধরতে চাই। আজ যিনি প্রধান অতিথি আছেন তিনিও যেন আমাদের পক্ষ সেই সুপারিশটি করেন।
তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় গর্ব। এই ইলিশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এবং উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে সবার। জেলেরা অনেক সময় আমাকে বলেন, আমরা যখন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকি তখন খাব কি? আমার কথা হচ্ছে যারা কৃষক তারা তাদের ফসল উৎপাদনের জন্য ৩ মাস বা কম বেশী সময় নিতে হয়। তারপর ফলন হয়। এই সময়টা তার পূর্বে সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেন। জেলে ভাইদের বছরের অন্য সময় উপার্জিত অর্থ সঞ্চয় করে রাখতে হবে বিপদের সময়ের জন্য।

১২ মার্চ, ২০২৪।