শাহ্ আলম খান
প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমে চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় অনলাইন জুম’র মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর জেলা মৎস্য
কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকীর পরিচালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যবৃন্দ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামাল হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ভারপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন মিলন ও সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মী, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি, বরফ কল মালিক সমিতির প্রতিনিধি, আড়ৎ মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং চাঁদপুর জেলার মৎস্য বিভাগীয় কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভার্চুয়াল সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। তাই ইলিশ সংরক্ষণে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে শিশু শ্রমিকের মাধ্যমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য জনসচেতনতা তৈরী করতে হবে। প্রয়োজনে নদী তীরবর্তী প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের, মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম সবাইকে নিয়ে সচেতনতা তৈরী করতে হবে। একইভাবে তাদেরকে কাজে লাগিয়ে কোন নৌকা কখন মাছ ধরতে নামবে তা গোপনে সংগ্রহ করতে হবে।
ডিসি বলেন, নদী তীরবর্তী দোকানসমূহ মা ইলিশ মজুদ, বেচা কেনায় ব্যবহৃত এক কথায় শেল্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই এই সকল দোকানের তালিকা তৈরী করে দোকানসমূহ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। নদী তীরবর্তী উপজেলা সমূহে প্রয়োজনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের রোস্টার ডিউটি দেওয়া যেতে পারে। নদী তীরবর্তী অন্যান্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে ভার্চুয়াল সভা করে ফলপ্রসূ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগীতায় মৎস্য অধিদপ্তর, চাঁদপুর বিগত বছরগুলোতেও সফলতার সাথে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তাই অন্যান্য বছরের ন্যায় বর্তমান বছরেও মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাই। ইলিশ আহরনে বিরত নদী তীরবর্তী চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার জেলেদের সহায়তার জন্য সরকার এই বছর ভিজিএফ এর বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ করেছেন যা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় উপবরাদ্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি বলেন, ড্রেজারের মাধ্যমে মা ইলিশের প্রজননের সময়ে বালু উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা যেতে পারে। তাছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারে।
নৌ পুলিশ, চাঁদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ইলিশের প্রধান এই প্রজনন মৌসুমে নদীতে মা ইলিশ নিধন বন্ধ রাখার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী মাছ অবতরণ কেন্দ্র, হাটবাজার, আড়তে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ রাখার জন্য জনেসচেতনা সভা করতে হবে।
কোস্ট গার্ড প্রতিনিধি বলেন, সার্বক্ষনিক নদীতে টহল জোরদার করা হবে এবং ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে জেলেদের নদীতে নামতে নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ অভিযানের সময় চাঁদপুর জেলায় অবস্থান করবে।
প্রেসক্লাব সভাপতি বলেন, আসন্ন ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গণমাধ্যম কর্মীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে বিগত সময়ের মা ইলিশ অভিযানের গ্যাপগুলো হয়েছে, সেগুলো যাতে এইবছর না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকা প্রয়োজন।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
চাঁদপুর বরফকল মালিক সমিতি কোষাধ্যক্ষ বলেন, অভিযানের ২২ দিন সব বরফ কল সার্বক্ষণিক বন্ধ রাখা যেতে পারে।
মৎস্যজীবী প্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধা মালেক দেওয়ান বলেন, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল মৎস্যজীবীরা ইলিশ আহরণে বিরত থাকবে। তবে বহিরাগত জেলেদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
৭ অক্টোবর, ২০২০।
