চাঁদপুরে দল শক্তিশালী করার তাগিদ তৃণমূলে

আ.লীগের উপজেলা সম্মেলন নিয়ে দলীয় দৌঁড়-ঝাঁপ

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে দীর্ঘ বিরতির পর ফের আলোচনায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্মেলন বা কাউন্সিলকে ঘিরে। জেলার প্রত্যেকটি ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও দলীয় কর্মীদের মূল্যায়নের জন্য এই সম্মেলনগুলো নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কম-বেশি হিমশিম খাচ্ছে। এ নিয়ে পুরো জেলায় এখন আলোচনা। শেষ পর্যন্ত কতটা সফলতার সাথে প্রত্যেক ইউনিটের সম্মেলন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে পারে জেলা শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, তা নিয়েই সবাই চিন্তিত।
চলতি নভেম্বর মাস থেকে উপজেলাভিত্তিক সম্মেলন শুরু হয়ে তা শেষ হবে আগামি ১১ ডিসেম্বর জেলা সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে। প্রতি তিন বছর পর বছর সম্মেলন করার কথা থাকলেও তা দলটি কোথাও ১০ বছর, আবার কোথাও পাঁচ বছর পর তাদের দলীয় সাংগঠনিক সম্মেলন করছে। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কম-বেশি ক্ষোভ আছে।
তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা বলছে, নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন না হওয়ায় যেমন ভালো নেতৃত্ব উঠে আসছে না তেমনি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়ছে। এতে করে মাঠ পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে বেশি। এতে করে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে তৃণমূলের এমন বক্তব্যর সাথে একমত নয় দলটির শীর্ষ নেতৃবন্দ। তারা বলছে আওয়ামী লীগ বড় দল হিসেবেই নিজদের মধ্যেই নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা আছে। চাইলেই সবাইকেই এক সাথে পদ-পদবী দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে দলীয় সম্মেলন নিয়ে জেলা নেতৃবৃন্দ বেশি বেকায়দায় আছে ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর-দক্ষিণ উপজেলা নিয়ে। দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ এ তিন উপজেলায় একাধিকভাবে বিভক্ত হওয়ায় জেলা নেতৃবৃন্দ ঐক্যমতের ভিত্তিতে এখনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারছে না। যার কারণে এখনো এই তিন উপজেলার ইউনিট কমিটির দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারছে না জেলা নেতৃবন্দ।
তবে আগামি ১১ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হলেও দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে জানা গেছে কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের সিডিউল ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সম্মেলনকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তাপের জন্য জেলা সম্মেলনের ঘোষিত সিডিউলে পরিবর্তন আসতে পারে।
দলটির জেলা শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দাবি করছে, জেলার তিনটি উপজেলার সম্মেলন করেই তারা জেলা সম্মেলন করতে চান। এজন্য তারা বিদেশ সফররত দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমের দেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। কোন কারণে তার আসা দেরি হলে বা কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলে হয়তো দু’একটি ইউনিটের সম্মেলন স্থগিত রেখেই জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করবেন।
এদিকে চলতি নভেম্বর মাসে হাজীগঞ্জ পৌর ইউনিটের সম্মেলন ২২ নভেম্বর ও হাজীগঞ্জ উপজেলার সম্মেলন ২৬ নভেম্বর তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। একই সাথে হাইমচরে ৫ ডিসেম্বর, চাঁদপুর সদর উপজেলা ও চাঁদপুর পৌর ইউনিটের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৬ ডিসেম্বর। কচুয়া উপজেলার সম্মেলন ৮ ডিসেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব সম্মেলন নিয়ে দলটির তৃণমূলে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে- বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা যাতে দলে স্থান করে নিতে না পারে। পাশাপাশি হাইব্রিড নেতাদের বিষয়েও সতর্ক থাকার জন্য সমর্থকরা সতর্ক করেছে। এ নিয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এখন কম-বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে দলটির কর্মীরা জানায়।
এজন্য দলটি তাদের প্রত্যেক ইউনিটের সম্মেলন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে ১১টি উপ-কমিটি গঠন করছে বলে জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে। এখন মাঠ পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা দেখার অপেক্ষায় তাদের শীর্ষ নেতৃবন্দ কতটা তাদের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়ে দলকে শক্তিশালী করেন।

২২ নভেম্বর, ২০২২।