স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের এক অনন্য- অর্জন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ দেশব্যাপী উদযাপন উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা
শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুরে সশরীরে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি, আমি আপনাদের সকলের কাছে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, যে আমি উপস্থিত হতে পারলাম না। কিন্তু অন্ততপক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সুযোগ্য পুত্র এবং তাঁর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয় উপদেষ্টা (আইটি বিশেষজ্ঞ) সজীব ওয়াজেদ জয় তাদের কল্যাণে আজকে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে সে কারণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমি যুক্ত হতে পেরেছি সেজন্য আমি আনন্দিত ও গর্বিত।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধায়, পরম ভালোবাসায় ও কৃতজ্ঞতায় আমি স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমি স্মরণ করছি একাত্তরের ত্রিশ লাখ শহীদকে, আমি স্মরণ করছি লাখ-লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। স্মরণ করি পচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যার শিকার হয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিবারসহ তাদের সবাইকে। স্মরণ করছি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। স্মরণ করছি ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা কে। স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আজ আমরা উন্নত দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সবাইকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আমাদের যে বিরাট অর্জন কি করে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে কাতারে যুক্ত হলাম। এটি সম্পূর্ণ শেখ হাসিনা সঠিক নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। আজকে আমাদের এই বাংলাদেশের বিরাট অগ্রযাত্রা কি অর্থনীতিতে, কি সামাজিক সকল সুযোগে, সব ক্ষেত্রে। আমাদের জনগণ সঠিক নেতৃত্বের বেছে নিয়েছেন। তাঁরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে তাঁর উপর বিশ্বাস-আস্তা রেখে তাঁর উপর দেশ পরিচালনা করা দায়িত্ব দিয়েছেন বলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালির-বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশটি যে মূল্যবোধ নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। সেই মূল্যবোধ গুলো যেন আমরা বজায় রাখতে। সেই মূল্যবোধ গুলো কে ধারণ করে আমরা যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। আমরা আরো চার-পাঁচটি বছর আমাদের এই ধারা কে অব্যাহত রাখলে আমরা পরিপূর্ণ ভাবে যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবো।
আমরা যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি ইনশাআল্লাহ উন্নত দেশে কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবো। সবাই মিলে একসাথে কাজ করব আমাদের চাঁদপুরকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের করোনা প্রভাব সারাবিশ্বে দ্বিতীয় ঢেউ আসছে এবং বাংলাদেশেও হঠাৎ করে সংক্রমণ হার বাড়ছে। আমাদের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এইবারের অবস্থাটি নিয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। তার কারণ করোনা ভাইরাসের পরিবর্তন গুরু এখন দেখা যাচ্ছে সেগুলো সংক্রমণ ক্ষমতা আরও বেশি। রোগীদের অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছে। আইসিইউ প্রয়োজন আরো বেশি পড়ছে। সেটি আমাদের মাথায় রাখতে হবে সংক্রমণ যেন না হয়, সেজন্য আমাদের যা যা কিছু করণীয় সেগুলো যেন আমরা সবাই করি। আমার প্রাণপ্রিয় চাঁদপুরবাসীর কাছে বিনীত অনুরোধ করবো আসুন আমরা প্রত্যেকে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। প্রত্যেকে আমরা সঠিকভাবে মাস্কটি ব্যবহার করি।
দীপু মনি বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরু মার্চের ৩০ তারিখে খুলে দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত আমরা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবক, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সার্বিক বিবেচনায় ঈদুল ফিতরের পরে পাঠদান শুরু করবে সেই আশায় আমরা করছি।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, পচাত্তরের ১৫ আগস্টের পরে বঙ্গবন্ধুর নাম নিষিদ্ধ করা হলো। বঙ্গবন্ধুর নাম এই বাংলাদেশের যে নিয়েছে তাকে নানাভাবে অত্যাচার, নির্যাতন শিকার হতে হয়েছে। শুধু আমার পরিবার নয়, সারা বাংলাদেশের বহু পরিবার আছে যারা বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করার কারণে, বঙ্গবন্ধুর সাথে সম্পর্ক থাকার কারণে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, যাদের কারাবরণ করতে হয়েছে। এরকম সারা বাংলাদেশ অসংখ্য অসংখ্য পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রুদ্র করে দেওয়া হয়েছে। সেই একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তারা ক্ষমতায় চেপে বসে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রুদ্র করে দিয়েছিল।
দীপু মনি বলেন, ২১বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে বাংলাদেশকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে নিয়ে এনেছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং বাংলা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ স্মৃতির পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জে আর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিম বরণ দাস, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডা. সৈয়দ বদরুন্নাহার চৌধুরী, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দাউদ হোসেন চৌধুরীসহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য রলি করা হয়। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসক বিনামূল্যে প্রায় ১ হাজার মাস্ক বিতরণ করেন।
২৮ মার্চ, ২০২১।
