স্টাফ রিপোর্টার
গতকাল রোববার থেকে সারা দেশের মতো চাঁদপুরেও সীমিতভাবে দোকানপাট ও মার্কেটগুলো খোলা রাখার কথা ছিল। কিন্তু জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাবার কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এজন্য সকাল থেকে জেলা শহরের প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে মাঠে ছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
দুপুর সাড়ে ১২টায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে শহরের ষোলঘর থেকে একটি দল সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একই সময় চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর নেতৃত্বে চেকপোস্ট পরিচালনা করতে দেখা যায়। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তিনটি দল শহরের প্রবেশকারী বিভিন্ন যানবাহনের গতিরোধ করে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে, শহরের প্রধান প্রধান মার্কেটগুলো বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকেই পায়ে হেঁটে এবং বিভিন্ন যানবাহন চেপে শহরে ঢুকে পড়ে।
দেশে করোনার বিস্তারের পর চাঁদপুরে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীও রয়েছেন।
চাঁদপুর রেলওয়ে হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় এই মার্কেটে ৫ হাজার মানুষ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। করোনা পরিস্থিতির কারণে ঈদ পর্যন্ত মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, জনসমাগম ঠেকাতে রোববার ভোর থেকে নতুনভাবে চাঁদপুরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ সময় দোকানপাট মার্কেট খোলা এবং অযাচিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে প্রশাসন। প্রয়োজনে আগামিদিন থেকে আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত মাসের ৮ তারিখে চাঁদপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। তার এক মাস পার হওয়ার পর গতকাল রোববার ভোর ৬টা থেকে নতুন করে আবারো সবকিছু বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।
১১ মে, ২০২০।
