চাঁদপুরে প্রাথমিকে উপস্থিতি সন্তোষজনক

রি-ওপেনিংয়ে বিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থীরা

ইলশেপাড় রিপোর্ট
বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রি-ওপেনিংয়ে হয়। বিদ্যালয় খোলার পর চাঁদপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। সপ্তাহে ৬ দিন পঞ্চম শ্রেণি ও এক দিনে অনান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অনেকটাই উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে।
এতে করে এ জেলায় প্রাথমিকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিক্ষকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। তারা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ করতে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের তদারকি অব্যহত রাখছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছে সামনের দিনগুলোতে উপস্থিতির পরিমাণ আরো বেশ অগ্রগতি সাধিত হবে।
এদিকে বিদ্যালয়গুলোতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধির মাধ্যমে পাঠদান অব্যহত রাখায় গত এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যেও জেলার কোথায়ও কোন শিক্ষার্থী অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কোন কোন দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম-বেশি হতে দেখা গেছে।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১২ সেপ্টেম্বর মোট শিক্ষার্থীর ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে। জেলার ৮টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ১শ’ ৫৬টি। আর এসব বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক ছাড়া জেলায় প্রথম শ্রেণি হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ৪শ’ ২ জন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো রি-ওপেনিংয়ে হলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরাক্ষা নিশ্চিত করতে বেঞ্চ প্রতি একজন শিক্ষার্থীর আসন বিন্যাস করায় প্রতিটি বিদ্যালই দুই শিফটে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ঐ বিন্যাস অনুসারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দৈনিক উপস্থিতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রথম শিফটে ২৮ হাজার ৪শ’ ২৮ জন ছাত্রের মধ্যে উপস্থিত হয়েছে ২২ হাজার ৬শ’ ৪১ জন। আর ৩২ হাজার ৪শ’ ৭০ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৬ হাজার ৫শ’ ২৯ জন ছাত্রী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে। মেটি ৬৪ হাজার ৯শ’ ৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯ হাজার ১শ’ ৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। যা শতকরা ৮১ শতাংশ।
দ্বিতীয় শিফটে ৯ হাজার ১শ’ ১৯ জন ছাত্রের মধ্যে উপস্থিত ছিলো ৭ হাজার ২শ’ ৫ জন ছাত্র। ১০ হাজার ১শ’ ৫১ জন ছাত্রীর মধ্যে ৮ হাজার ২শ’ ৬৭ জন ছাত্রী উপস্থিত হয়। মোট ১৯ হাজার ২শ’ ৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ হাজার ৪শ’ ৭২ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শিফটে উপস্থিত হয়। যা মোট উপস্থিতির ৮০ শতাংশ।
একইভাবে পরের সপ্তাহের ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রথম শিফটে ২৯ হাজার ৫শ’ ৬১ জন ছাত্রের মধ্যে ২৩ হাজার ৯শ’ ৯ জন ছাত্র বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। ৩৪ হাজার ৭শ’ ৫৩ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৮ হাজার ৮শ’ ৪০ জন ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে। মোট ৬৪ হাজার ৩শ’ ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ হাজার ৭শ’ ৪৯ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আগমণ নিশ্চিত হয়। যা মোট শিক্ষার্থীর ৭৬ শতাংশ।
একইভাবে দ্বিতীয় শিফটে ৮ হাজার ১শ’ ৮১ জন ছাত্রের মধ্যে ৬ হাজার ৫শ’ ৬৪ জন ছাত্র বিদ্যালয়ে আসে। ৯ হাজার ১শ’ ৯৯ ছাত্রীর মধ্যে ৭ হাজার ৭শ’ ৯৪ জন ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে। মোট ১৭ হাজার ৩শ’ ৮০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ হাজার ৩শ’ ৫৮ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। যা মোট শিক্ষার্থীর ৭৭ শতাংশ।
এদিকে বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম সপ্তাহের তুলনায় দ্বিতীয় সপ্তাহে কিছু শিক্ষার্থী কম উপস্থিত হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময়ে মাস্ক পড়ে বিদ্যালয়ে অবস্থান করতে অনেকটাই অশ্বস্তি প্রকাশ করছে। যার কারণে তাদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির আগ্রহ কমে আসছে বলে অভিভাবকরা জানান। এছাড়া বর্তমান আবহাওয়াজনিত ঝড়-বৃষ্টিতে কিছু শিক্ষার্থীর অসুস্থতাজনিত কারণেও তারা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১।