চাঁদপুরে ‘ফার্মাসিস্ট’ ছাড়াই চলছে ফার্মেসী!

মনিরুল ইসলাম মনির
ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলার বিভিন্ন অলি-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মত যত্রতত্র গড়ে উঠেছে লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসী। প্রশাসনের কোন রকম তোয়াক্কা না করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অলি-গলি, পাড়া-মহল্লায় দেদারছে জমজমাট ওষুধ ব্যবসা খুলে বসেছে অনেকেই।
উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ছাড়াও বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ওষুধ ফার্মেসী। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপসন) ছাড়াই মাদকাসক্তরা চাহিবামাত্রই অনেক ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে নেশাজাতীয় বিভিন্ন ওষুধ।
এসব ফার্মেসীর বেশিরভাগ নেই কোন ফার্মাসিস্ট সনদ। অনেকের ড্রাগ লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। এসব ফার্মেসীগুলোতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই উচ্চমাত্রায় এজোথ্রমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের বড়ি ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, নিষিদ্ধ ভারতীয় নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের নানা প্রকার ওষুধ অবাধে বিক্রি করে আসছে। ফলে একদিকে যেমন ওষুধ ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ-লাখ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি ঘটছে নানা ধরনের ছোট বড় দুর্ঘটনা।
ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪০ অনুসারে ওষুধের দোকান বা ফার্মেসী দেওয়ার ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে প্রথমেই কমপক্ষে ৬ মাসের ফার্মাসিস্ট কোর্স করে সনদ সংগ্রহ করতে হবে। পরে সংশ্লিষ্ট ড্রাগ সুপারের কর্যালয়ে ফার্মাসিস্ট সনদ জমা দিয়ে ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর ৪ নম্বরের ১৩ নম্বর ধারায় ‘ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ’ শিরোনামে ২ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, কোন খুচরা বিক্রেতা বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিলের কোন রেজিস্টারের রেজিস্ট্রিভূক্ত ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান ছাড়া কোন ড্রাগ বিক্রি করতে পারবেন না।
সাধারণত এ, বি ও সি- এই তিন ক্যাটাগরির ফার্মেসী রয়েছে আমাদের দেশে। অনেকেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি না পার করেই কম খরচে বেশি লাভের আসায় ফার্মেসী বা ওষুধের দোকান নিয়ে বসেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়েও নেই জেলায় কি পরিমাণ ওষুধের দোকান রয়েছে- এর তথ্য।
প্রশাসনের সঠিকভাবে তদারকি না থাকার কারণে দিনের পর দিন লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, তাই প্রশাসনের সঠিক নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।
২৬ জানুয়ারি, ২০২১।