বাঙালি জাতির জন্য মার্চ মাস একটি গৌরবোজ্জ্বল মাস
……….আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান
স্টাফ রিপোর্টার
‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর হৃদয় হোক রঙিন’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চাঁদপুরে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর
জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালি জাতির জন্য মার্চ মাস একটি গৌরবোজ্জ্বল মাস। এ মাসেই জাতির জনকের জন্ম হয়েছে। এ মাসেই ডাক দেয়া হয়েছে স্বাধীনতার। আবার এ মাসেই আমাদের স্বাধীনতা দিবস। তাই এ মার্চ মাস খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাস। বঙ্গবন্ধু এমন একজন আদর্শের মানুষ ছিলেন যিনি জীবনে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি ছিলেন স্পষ্টবাদী ও স্বাধীনচেতা। আজকের তার জন্মদিনে আমরা মহান এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন। শিশুদের পছন্দ করতেন বলেই দেশ স্বাধীনের পর শিশু শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। তিনি শিশুর অধিকারের বিষয়ে ভীষন সচেতন ছিলেন। দেশের শিশু সংগঠনগুলোর প্রতি তার ছিল ভীষণ দুর্বলতা। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করেছেন শিশু শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে। বিদ্যালয়ে সাথে সাথে শিক্ষকদের চাকরিও জাতীয়করণ করেছিলেন। স্বাধীনতার পর যাতে দেশ এগিয়ে যেতে না পারে সেজন্যই ৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যা করা হয় স্বপরিবারে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। জাতির পিতার সেই ৭ মার্চের ভাষণ আজ সারাবিশ্বে অন্যতম। তিনি এই ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালিদের যুদ্ধে যেতে উজ্জীবিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে এ দেশটা সোনার বাংলা গড়ে তুলবো।
দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এমআর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আব্দুর রহিম, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাস, এনএসআই’র উপ-পরিচালক শাহ আরমান আহমেদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, বিশিষ্ট লেখক ডা. পীযূষ কান্তি রায় বড়ুয়া প্রমুখ।
জেলা প্রশাসনের দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিলোঃ সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা, সকল সরকারি-বেসরকারি, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও জেলা-উপজেলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টায চাঁদপুর সরকারি কলেজে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সকাল ১০টায় স্ব স্ব বিভাগীয় ও প্রতিষ্ঠানসমূহে সীমিত পরিসরে কেক কাটা ও মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়। মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে মিস্টান্ন ও খাবার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসন। দুপুর ১টায় হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার ও মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী চাঁদপুর লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর ভিডিও ক্লিপ ও ফুটেজ প্রচার করা হয়। দিনব্যাপী রচনা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযিাগিতা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চাঁদপুর সিভিল সার্জেনের আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। জেলার সব ক্লিনিকে ২০% হারে ছাড়ে দিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। চাঁদপুর ও মতলব সেতু টোল ফ্রি করা হয়। ১৭ মার্চের ভোরে প্রথম ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর জন্যে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
১৮ মার্চ, ২০২১।
