এস এম সোহেল
সামাজিক অবক্ষয়কে পেছনে ফেলে নতুন ও মঙ্গল কামনায় নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে বাঙালি। সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও জেলা প্রশাসনের ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো পয়লা বৈশাখ বর্ষবরণ উৎসব-১৪৩০ বঙ্গাব্দ।
বৈশাখকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে দিবসের প্রথম প্রহরেই শুরু হয় কার্যক্রম। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সকালে শহরের চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেরসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, সাংষ্কৃতিক সংগঠন বর্ণিল সাজে সেজে অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে মূল আয়োজন স্থল চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে গিয়ে শেষ হয়।
পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। আলোচনা সভা শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাঙালি আমাদের চেতনায় মিশে আছে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সার্বজনীন উৎসব। এ উৎসবে আমরা সব ধর্মের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একসাথে অংশগ্রহণ করি। এটা আমাদের চেতনা, মননে ও সংস্কৃতিতে আছে। বাঙালির এই দিনে আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিকসহ নানা কর্মকা- উদযাপন করি। মঙ্গল শোভাযাত্রা করেছি, যা ইউনেস্কো কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেটা আসলে অনুভব করা যায়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪টি ঐতিহ্য স্বীকৃতি ইউনেস্কোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দিনটি উদযাপন করা হয়। এটা বাঙালির অনুষ্ঠান। আমরা যারা পাঞ্জাবি পরি না তারা একটি দিন মানে এ দিনে পাঞ্জাবি পরি। এদিন সার্বজনীন উৎসবের দিন। খাওয়ার সময়ও চিন্তা করি বাঙালিয়ানা খাওয়া খেতে। এই একটি দিন আমরা বাঙালি সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে উপভোগ করার চেষ্টা করি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাশ, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার।
আলোচনা সভা শেষে তৈলাক্ত কলা গেছে বেয়ে উঠা, মুরগি ধরা, বালিশ খেলা, ঘুড়ি উড়ানোসহ নানা বাঙালি গ্রামীণ খেলার আয়োজন করা হয় এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে একে একে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তিসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দুপুরে হাসপাতাল, কারাগার ও সরকারি শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
এভাবেই বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ১৪৩০ নববর্ষের দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া বাঙালি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সকালে অনুষ্ঠিত হয় শুভ হালখাতা ও গদি সাঈদ। এদিন ব্যবসায়ীরা পুরানো খাতার হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে নতুন খাতায় ১৪৩০ বঙ্গাব্দের হিসেবের যাত্রা শুরু করবে। জড়িয়ে ধরবেন একে অপরকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে। কামনা করবেন নতুন বছর যেনো আনন্দঘন হয়ে উঠে সবার হৃদয়ে। এছাড়া চাঁদপুর জেলার প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপকভাবে আয়োজন করা হয়েছে বর্ষ বিদায় এবং পালন করেছে বর্ষবরণ।
১৬ এপ্রিল, ২০২৩।
