স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে নিখোঁজ হওয়ার ১৬ দিন পর ওসমান গনি মুন্সি (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ওসমান গনির লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা করা হবে বলে জানান থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ। তিনি আরো জানান, লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নাই। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি আত্যহত্যা হতে পারে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তার পরিবার লাশ দাফন করার জন্য নিয়ে গেছে। সেখান থেকে এসে তারা মামলা রুজু করবে।
গত মঙ্গলবার রাতে এলাকাবাসী থেকে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর চরবাকিলা গ্রাামের সুকুমার চন্দ্রের চাষকৃত ভুট্টা ক্ষেত থেকে চাঁদপুর মডেল থানার জিডিমূলে এসআই রাশেদুজ্জামান ও এসআই নাছির ওসমান গনি মুন্সির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে।
নিহত ওসমান গনি একই ইউনিয়নের কামরাঙ্গা গ্রামের মৃত রুস্তম আলী মুন্সির ছেলে। তিনি পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে পাঁচ নম্বর। ওসমান গনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ও কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ওসমান গনি উপজেলার কামরাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে দেবপুর বেপারী বাড়ি খালার বাড়িতে আসেন। সেখান থেকে কাজের উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর থেকে তার পরিবার থেকে কোন নিখোঁজ ডায়রি চাঁদপুর মডেল থানায় করা হয়নি।
এ খবরের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রশিদ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুজন চন্দ্র চক্রবতী, সিআইডি ইন্সপেক্টর আবু জাহিদ সরকার, পিবিআই ইন্সপেক্টর কবির হোসেন, রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন লিটু।
নিহতের বড় ভাই শাহজালাল মুন্সি জানান, ওসমান গনি একজন মালেশিয়া প্রবাসী। গত বছর করোনার আগে ছুটিতে দেশে আসলে বিমান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার আর বিদেশ যাওয়া হয়নি। এরপর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী পাটওয়ারী বাড়িতে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
তার স্ত্রী সালমা বেগম জানান, আমার স্বামী প্রতিদিনের মতো সেদিনও কাজের উদ্দেশে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার বলেন, ময়নাতদন্তের পর বোঝা যাবে মুত্যুর কারণ কী? তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন কি না পিবিআই ও সিআইডি যে আলামত সংগ্রহ করেছে তা বিশ্লেষণ করলে বুঝা যাবে।
২৯ এপ্রিল, ২০২১।
