ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে শেষ মুহূর্তে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন (টিকা) নিতে সর্বসাধারণ আগ্রহী হয়ে উঠছে। ইতোপূর্বে সচেতন মহল টিকার আওতায় আসলেও বাদ পরে যায় অনেকেই। যাদের অনেকের মাঝে ভ্যাকসিন নিয়ে পারস্পরিক ভুল ধারণা ও আগ্রহের ঘাটতি ছিলো। ১২ বছরের উর্ধ্বে সবাই যাতে ভ্যাকসিনের (প্রথম ডোজ) আওতায় আসে এজন্য সরকার শনিবার (২৬ ফেব্রæয়ারি) শেষ দিন ঘোষণা করলে সবার মাঝে এ নিয়ে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসে গত ৩ দিন রাত কমপক্ষে ১১টা পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদান চলে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের টিকাদান করায়।
সরকারের এ কার্যক্রম আজ ও আগামিকাল চলবে বলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যলয় সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে চাঁদপুর জেলায় সাড়ে ৩শ’ ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে দেড় লাখ লোককে ভ্যাকসিন প্রদানের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সাথে সারা দেশে এক কোটি লোককে এই ৩ দিন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যাতে কেউ টিকা থেকে বঞ্চিত না হয় এজন্য প্রতিটি বাড়ি গিয়ে তদারকি করবে ভ্রাম্যমাণ টিম। আবার যাদের টিকা নিয়ে অনাগ্রহ আছে তাদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ টিকার আওতায় আনা হবে।
এই ৩ দিনে টিকা গ্রহণের আগে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়। কেবলমাত্র ব্যবহৃত মুঠো ফোন নম্বর থাকলেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যাবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। যার কারণে গতকাল সবগুলো ভ্যাকসিন কেন্দ্র ভোর থেকে দীর্ঘ লাইন দিয়ে টিকা নিতে স্থানীয়দের দেখা গেছে।
এই ৩ দিন ফাইজার ও সিনোব্যাকের টিকা প্রদান করা হচ্ছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়। টিকা কেন্দ্রগুলোতে কেবল স্থানীয় লোকজনই নয়, এসব এলাকায় যেসব লোকজন বসবাস কিংবা কর্মস্থল হিসেবে কাজ করছে সবাই টিকা পাবে বলে সিভিল সার্জন অফিস জানায়।
তবে স্থানীয়দের মাঝে বিনামূল্যে টিকা গ্রহণের এই শেষ সুযোগ বলে চাউর থাকলেও, সিভিল সার্জন কার্যালয় এ বিষয়ে কোন বক্তব্য প্রদান করেনি। সাধারণ মানুষজন বলছে, করোনা পরীক্ষার মতো আগামি ২৮ ফেব্রæয়ারির পর টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।
জানা গেছে, দেশে এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে ১১ কোটি। এই ৩ দিনে ১ কোটি টিকা নিলে মোট ১২ কোটি লোক ভ্যাকসিনের আওতায় আসবে। এতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হবে। গত বছরের ৭ ফেব্রæরারি থেকে সরকার দেশে প্রথম টিকা প্রদান শুরু করেন। দ্বিতীয় ডোজ শুরু করেন ৮ এপ্রিল এবং বুস্টার (তৃতীয়) ডোজ প্রদান শুরু করেন গত ২৮ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যে দেশে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছে, ৮ কোটি ১৯ লাখ লোক। আর বুস্টার ডোজ নিয়েছে ৩৫ লাখ ৫৯ হাজারেরও বেশি লোক।
চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদাত হোসেন ইল্শেপাড়কে জানান, এখনো ভ্যাকসিন নেয়নি এমন লোকজনদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে সরকার যে (প্রথম ডোজ) এক কোটি ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম হতে নিয়েছে তা বাস্তবায়নে কাজ করছে চাঁদপুর জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে সাড়ে ৩শ’ টিকা কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।
গণটিকা কার্যক্রম চলবে আরও ২ দিন
একদিনে এক কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজ টিকাদান কর্মসূচি আরও দুদিন চলবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ টিকাবিষয়ক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ কথা জানিয়েছেন।
দেশে এক কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হচ্ছে শনিবার। টিকা পেতে কোনো ধরনের নিবন্ধন কিংবা কাগজপত্রের প্রয়োজন হচ্ছে না।
জানা গেছে, দেশের ২৮ হাজার বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে আজ। এসব বুথে টিকা দেওয়ার কাজে নিযুক্ত আছেন স্থাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকসহ মোট এক লাখ ৪২ হাজার জন।
দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের বাইরেও পাঁচটি করে ভ্রাম্যমাণ দল রয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অঞ্চলে ৩০ থেকে ৫০টি করে বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে করোনার গণটিকাদান শুরু হয় ২০২১ বছরের ৭ ফেব্রæয়ারি। করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১০ কোটি ৯ লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের মতো।
তাদের মধ্যে সাত কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ এবং ২৬ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।
এর মধ্যে গতবছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ লাখ ডোজের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছিল একদিনে।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২।
