চাঁদপুরে মাস্ক না পড়ায় ১০৫ ও সড়ক পরিবহন আইনে ১৮ জনকে অর্থদণ্ড

শাহ্ আলম খান
মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। সে লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। বৈশ্বিক এই ভাইরাসটিতে দেশে এখন পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখের বেশি। অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা ভালো থাকলেও আগামি শীতে ভাইরাসটির দ্বিতীয় ঢেউয়ে অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই আশঙ্কা থেকে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মানানোর প্রতি জোর দিচ্ছে। তবে অবস্থার অবনতি হলেও আরেক দফা সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত জুলাই মাসের শেষ দিকে বাসার বাইরে সব জায়গায় সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে সরকার। সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে চাঁদপুর জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানাও করা হচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাস্ক না পরে প্রকাশ্যে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থান ও সড়ক, মার্কেট এবং জনসমাগমস্থলে চলাফেরা করার কারণে পৃথক তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১শ’ ৫ জনকে ১৪ হাজার ৪শ’ ৫০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের কারণে ১৮ জনকে ৪ হাজার ৩শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোভিড-১৯ সংক্রমণের সম্ভাব্য সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলায় মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের তত্ত্বাবধানে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যবিধির উপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ইলিশ চত্বর, লঞ্চঘাট ও বাবুরহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা হলো মঞ্জুরুল মোর্শেদ, মো. মেহেদী হাসান মানিক ও মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেইন।
চাঁদপুর শহরের লঞ্চঘাট, মোলহেড ও রেল স্টেশন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল মোর্শেদের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত পেনাল কোড ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা মোতাবেক ২৯টি মামলায় ২৯ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন অংকে ৩ হাজার ৩শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে শহরের ইলিশ চত্বর এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি মো. মেহেদী হাসান মানিকের নেতৃত্বে একই ধারায় ৪৪টি মামলায় ৪৪ জনকে বিভিন্ন অংকে ৬ হাজার ৯শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।
ইলিশ চত্বর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মনিটরিং করেন এবং মাস্ক ছাড়া যাত্রী বহন নিষেধ জেলা প্রশাসনের স্টিকার অটোরিকশা, সিএনজি ও মাইক্রোবাসে লাগিয়ে দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। বাবুরহাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেইনের নেতৃত্বে ৩১টি মামলায় ৩১ জনকে বিভিন্ন অংকে ৩ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় করোনায় ভয়াবহতা তুলে ধরে পথচারী, গাড়িচালক, যাত্রী ও সর্বসাধারণকে সতর্ক করতে প্রচারণা চালানো হয়। ড্রাইভারকে মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বের না হওয়া এবং মাস্কবিহীন যাত্রীদের গাড়িতে না উঠানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
এসময় জেলা পুলিশ বাহিনী, ব্যাটেলিয়ান আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। এদিকে একই সময় বাবুরহাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেইন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জেলা টাস্কফোর্স অভিযানে সড়ক আইনে ৪৯ (১) ভঙ্গের দায়ে ৯২ ধারায় অনুযায় হেলমেট না থাকায় ১৭টি মামলায় ১৭জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন অংকে ৩ হাজার ৩শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অপরদিকে একই সময় একই ধারায় ইলিশ চত্বরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান মানিক সড়ক পরিবহন আইন না মানায় এবং হেলমেট না থাকায় ১টি মামলায় ১ জনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ও সড়ক পরিবহন আইন লংঘনের দায়ে সর্বমোট ১শ’ ২২ জন ব্যক্তিকে ১৭ হাজার ৮শ’ ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
১৮ নভেম্বর, ২০২০।