চাঁদপুরে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় টার্মিনালগুলোতে

বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর ফিরছে পুরনো চিত্র

ইলশেপাড় রিপোর্ট
করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকার একযোগে দ্বিতীয়বারের মতো সারাদেশকে লকডাউন ঘোষণা করে ১৪ এপ্রিল। লকডাউনে সাধারণ মানুষের জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে সরকার সীমিত পরিসরে শহরের অভ্যন্তরে ছোট-ছোট যানবাহন চলাচলের অনুমোদন দেয় শুরু থেকেই। কিন্তু এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে জেলা শহরগুলো থেকে সব ধরনের দূরপাল্লার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় সারা দেশে।
এ সময় অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ তেমন এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যায়নি। এমন পরিস্থিতি বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে সারাদেশের অভ্যন্তরে সব ধরনের যানবাহন চালু করার দাবি উঠে সর্বমহলে। সে মোতাবেক সরকার ২৩ মে মধ্য রাত থেকে শর্তসাপেক্ষে সব ধরনের যানবাহনের উপর থেকে প্রত্যাহার করে নেয় নিষেধাজ্ঞা।
সরকারি সিদ্ধান্তে সোমবার (২৪ মে) ভোর ৬টা থেকে আগের সিডিউল অনুযায়ী চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রীবাহী লঞ্চ যেমন চলাচল শুরু হয়, তেমনি চলতে শুরু করে বাস ও ট্রেন। সব ধরনের যানবাহন সিডিউল মোতাবেক যাত্রা শুরু করলে যাত্রীদের ভীড় বাড়তে থেকে ভোর থেকেই। স্বাস্থ্যবিধি ও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচলের সরকারি নির্দেশনা পালনে যানবাহন মালিক, শ্রমিক চেষ্টা করলেও সাধারণ যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্য যাওয়ার জন্য আগের রীতিতে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে। তবে গতকাল প্রশাসনের দিক থেকে গণপরিবহনের টার্মিনালগুলোতে নজরদারি ছিলো উল্লেখ করার মতো।
গতকাল প্রথম দিনে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিলো। প্রত্যেক লঞ্চে যাত্রীদের আসন সীমিত রেখে ঢাকার উদ্দেশে এক ঘণ্টা পর-পর লঞ্চ চাঁদপুর ঘাট ছাড়তে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে শহরের স্বর্ণখোলা বাস টার্মিনালেও। তবে প্রথম দিনে লঞ্চ ও বাসে যাত্রী তুলতে চালক ও শ্রমিকদের সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে।
চাঁদপুর নৌ বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা কায়সারুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুর থেকে যথারীতি ভোর ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যায়। এরপর আগের সিডিউল অনুযায়ী সব লঞ্চ যথারীতি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলাচল করছে। লঞ্চে একটি সিট খালি রেখে যাত্রীদের বসানো হয়েছে। লঞ্চে প্রবেশের আগে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
লঞ্চ যাত্রী মুরাদ ও সামাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর লঞ্চ চালু হলো। লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রী উঠিয়েছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কোন অভিযোগ করেননি এই দুই যাত্রী। তারা বলছেন, এই ধারায় লঞ্চ চলাচল সবসময় স্বাভাবিক থাকুক। সবচেয়ে বড় কথা গণপরিবহন চালু হওয়ায় দুর্ভোগ কমে আসছে বলে তারা দাবি করেন।
রফরফ-২ ও মিতালি লঞ্চের সুপারভাইজার মো. ইউসুফ আলী বেপারী বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক আসনের মাঝে একটি খালি আসন রেখে যাত্রী বসানো হচ্ছে। লঞ্চে প্রবেশ পথে স্টাফরা যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে যাত্রী প্রবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোন যাত্রীকে মাস্ক ছাড়া লঞ্চে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।
চাঁদপুর লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বলেন, ভোর ৬টায় চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে গেছে। চাঁদপুর-ঢাকার মধ্যে ১৭টি বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-নারায়গঞ্জের মধ্যে রয়েছে ১৩টি ছোট লঞ্চ। সবগুলোই আগের সিডিউল অনুযায়ী চলাচল শুরু করে।
চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পরে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চগুলো চাঁদপুর ঘাটে আসছে। যাত্রীসেবা ও স্বাস্থবিধি নিশ্চিত করতে নৌ-থানা পুলিশ ঘাটে অবস্থান করছে।
চাঁদপুর বাস মালিক সমিতির নেতারাও বলছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই আমরা সড়কে যানবাহন চালু করেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমারা গণপরিবহন চালাতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে যাত্রীদেরও সহযোগিতার প্রয়োজন আছে বলে দাবি করেন বাস চালকরা।
এদিকে সড়ক, নৌ-পথ ও রেলপথে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় মালিক, চালক ও শ্রমিকদের অনেককেই খুশি হতে দেখা গেছে। তবে সাধারণ যাত্রীরা কম-বেশি ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, চাহিদার বিপরীতে ভাড়া বেশি হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতি ও কম যানবাহন থাকায় পথে-পথে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

২৫ মে, ২০২১।