বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তাদের পরিদর্শন
এস এম সোহেল
‘আনন্দ ভ্রমণ আর নিরাপদ জীবন’ বাংলাদেশ রেলওয়ে যোগাযোগ। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার ও কেন্টিন না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত ১০ আগস্ট দৈনিক ইল্শেপাড়ে এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঐ সংবাদের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল চাঁদপুর পরিদর্শনে আসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক ম্যানেজার (ডিআরএম) মো. সাদেকুর রহমান বলেন, চাঁদপুর রেলওয়ে যেসব সমস্যা আপনার তুলে ধরেছেন তা যুক্তিসংগত। আমরা সরকারের কর্মচারী, চাইলেই কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারি না। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তই মূল সিদ্ধান্ত। বর্তমান সরকার ডিজিটাল প্রদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করছে। রেলওয়ের অনেক কিছুই ডিজিটাল প্রদ্ধতিতে করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে থেকে আন্তঃনগর মেঘনা ট্রেন চলাচল শুরু করেছে। অন্যান্য ট্রেন অচিরেই চালু করা হবে। লাইনগুলো সচল কিনা তা দেখতে এলাম। বর্তমানে ২৫% জনবল দিয়ে কাজ করা হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা। করোনার কারণে আমরা কর্মকর্তারা একত্রিত হতে পারিনি। আজ সামাজিক দূরত্ব মেনে চাঁদপুর এসেছি।
তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে অবৈধ সব স্থাপনা ও দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব না। আসার সময় স্বল্প পরিসরে কিছু স্থানে উচ্ছেদও করেছি। আগামিতে বড় উচ্ছেদগুলো করা হবে। নবনির্মিত ওয়াসপিটটি আমরা অবজারভেশনে রেখেছি।
চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রি নিরাপত্তা, উন্নতমানের ক্যান্টিন, বিশ্রামাগারসহ যেসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের তুলে ধরা দাবিগুলো যৌক্তিক। ভবিষ্যতে এসব সমস্যার সমাধান কিভাবে করা যায় তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। তাছাড়া আমরা এসেছি যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা দেখার জন্য। আমাদের অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকার যদি আমাদের অনুমতি দেয় আপনাদের যৌক্তিক বিষয়গুলোর বিষয়ে তাহলেই কাজ করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে ডিসিও আনসার আলী, ডিএমই ওয়াহিদুর রহমান, ডিএসটিই জাহিদ হাসান পাটোয়ারী তম্ময়, ডিটিও (চট্টগ্রাম) স্নেহশিষ, ডিইই সাকের আহমেদ, ডিইও মাহবুবুল করিমসহ আরো অনেকে।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে চাঁদপুর-লাকসাম সবকটি স্টেশন আধুনিকায়ন হয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের বসার স্থান হিসেবে কিছু লোহার ব্রেঞ্চ দিলেও, তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে যাত্রীরা বসার জায়গা না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীসহ অন্যান্য যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ও প্লাটফর্মের মেঝেতে বসে থাকতে হচ্ছে। চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন এ স্টেশনের উপর দিয়ে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন এবং কুমিল্লা ও লাকসামগামী কমিউটার ডেম্যু ট্রেন চলাচল করতো। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ।
চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোয়াইবুল সিকদার জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৭টি ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ট্রাফিক। যার দায়িত্বে রয়েছি আমি। আমার এ বিভাগে ৭৬ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১৭জন। এ সীমিত জনবল দিয়ে রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগ পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয়। তারপরও সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, রেলওয়ে স্টেশন সেখানে যাত্রীদের জন্য ২টি বিশ্রামগার রয়েছে। যা পর্যাপ্ত নয়। চাঁদপুর-লাকসাম-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে ৪টি ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করতো। বর্তমান করোনার কারণে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে।
সাধারণ যাত্রীদের দাবি দ্রুত এখানে বিশ্রামাগার ও উন্নমানের ক্যান্টিন চালু করা হোক।
১৯ আগস্ট, ২০২০।
