চাঁদপুরে লোডশেডিংয়ে জনজীবনে স্থবিরতা

ইলশেপাড় রিপোর্ট
সারা দেশের মতো চাঁদপুরেও বিদ্যুতের লোডশেডিয়েং জনজীবনে ব্যাপক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কারখানার উৎপাদন, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গত শনিবার হতে বিদ্যুতের এমন অব্যাহত দুর্ভোগের কারণে ঈদ-পূর্ব মুহূর্তে সর্বক্ষেত্রে কম-বেশি প্রভাব পড়ছে। ব্যাংক-বিমার লেনদেনও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ২৭, যা এখন ১শ’ ৫২টিতে দাঁড়িয়েছে। ওই সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৫ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৫শ’ ৬৬ মেগাওয়াটে।
যদিও দেশে এতো বিদ্যুতের চাহিদা নেই। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করে অনেক কেন্দ্রকে বসিয়ে বসিয়ে ভাড়া দেওয়া, বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও রয়েছে দেশে।
এদিকে চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে আকস্মিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার মতো চাঁদপুরেও সরবরাহ কমে আসছে। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ছাড়াই চাঁদপুর পিডিবি’র বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬৬ হাজার। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা দিনের সময় ১৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ আছে ১১ মেগাওয়াট। ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ কম পাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।
এদিকে দিনভর চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বেশি নাকাল অবস্থা পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। ফলে গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, শতভাগ বিদ্যুতায়িত জেলা চাঁদপুর। এ জেলায় বিদ্যুতের কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন তারা। দিনে ৪-৫ বারের বেশি সময় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে এসএসসি, দাখিল ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ সমস্যায় কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় শহর ও উপজেলার ব্যবসায়ীসহ কর্মজীবী মানুষরা দিশেহারা হয়ে পরছে। মিল-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানা গেছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩শ’ ৭০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে গড়ে ৩শ’ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা যেত। এর মধ্যে দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত হতো ২শ’ ২০ থেকে ২শ’ ৩০ কোটি ঘনফুট। বাকি ৭০ থেকে ৮০ কোটি ঘনফুট আমদানি করা হতো। গত দুই তিন দিন ধরে সরবরাহ করা হচ্ছে দিনে ২শ’ ৭৫ থেকে ২শ’ ৮০ কোটি ঘনফুট।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গত রোববার নিজের ফেসবুক পেজে অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরবরাহ অন্যান্য সব দেশের মতো বাংলাদেশকেও সমস্যায় ফেলেছে।

০৬ জুলাই, ২০২২।