মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামের পশ্চিম মোল্লা বাড়িতে ছলেমান মোল্লার বাড়ির চলাচলের পথ স্থাপন ও নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে ওই বাড়ির মৃত রশিদ মোল্লার ছেলে মজিব মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ভাতিজা ছলেমান মোল্লা (৩২)। তিনি একই বাড়ির মৃত সোনা মিয়া মোল্লার ছেলে।
ছলেমান মোল্লা জানান, তাদের হাটা ও চলাচলের কোন পথ নেই। তার বাবা ও ভাইয়েরা স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে অন্য বাড়ি ও অপর মানুষের পথ দিয়ে হাঁটা ও চলাচল করে আসছেন এবং এখন পর্যন্ত হাঁটা-চলা করছেন। তিনি বলেন, নাটেহরা মৌজার সিএস ২০৮ ও বিএস ৯৪ খতিয়ানভুক্ত ১৪৭ সাবেক দাগ ও ৩৭৮ হাল দাগে তার বাবা ৩৭ শতাংশের ভূমির মালিক। এরমধ্যে তিনি পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে ২৬ শতাংশের মালিক।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছর আগে আমাদের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীর নির্দেশনায় সাবেক ইউপি সদস্য আকতার মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার চাচা মজিব মোল্লা ও তাদের সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। এর মধ্যে আমাদের বসতঘরের সামনে চাচা মজিব মোল্লার ভোগ-দখলে থাকা কয়েক হাত ভূমি মাপঝোখে আমাদের মধ্যে পড়ে যায়।
ওই সময় সালিসদারদের সিদ্ধান্তমতে ওই কয়েক হাত ভূমির মাটির মূল্য বাবদ চাচা মজিব মোল্লাকে নগদ ২০ হাজার টাকা প্রদান করি। এরপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আমরা ওই ভূমির ভোগ-দখলে আছি। এদিকে আমাদের হাঁটা ও চলাচলের পথ না থাকায় মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সকালে আমি ওই স্থানে হাঁটা ও চলাচলের পথ স্থাপন ও নির্মাণের উদ্দেশ্যে গাছ-গাছালি পরিস্কার করি। এ সময় আমার চাচা বাধা প্রদান করেন।
এসময় তিনি চাচা মজিব মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আরো বলেন, আমাদের বাবা নেই। আমরা চাচাকে বাবার চোখে দেখি। অথচ চাচা আমাদের হাঁটা ও চলাচলের পথ স্থাপন ও নির্মাণে বাধা দেন। এছাড়া তিনি তার বসতঘরের পেছনে আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির উপর গাছপালা জোরপূর্বক দখল করে আছেন এবং আমার প্রায় আধা শতাংশ সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে মজিব মোল্লার সাথে কথা বলতে তার বসতরঘরের সামনে গেলে তিনি দেখা করেননি এবং সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ওই সময় তার স্ত্রীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ছলেমান মোল্লার ভাই নাজির মোল্লার কাছ থেকে আমরা দুই শতাংশ সম্পত্তি কিনেছি। এর মধ্যে দেড় শতাংশ সম্পত্তি ওই স্থানে রয়েছে। তারা এখন আমাদের ওই দেড় শতাংশের সম্পত্তির উপর জোরপূর্বক রাস্তা করছেন।
এদিকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য আকতার মেম্বার জানান, হ্যাঁ ওই সালিসি বৈঠকে তাদের সম্পত্তিগত বিরোধ সমাধান করে স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে মজিব মোল্লাকে নগদ ২০ হাজার টাকা প্রদান করে তার আপন ভাতিজা ছলেমান মোল্লা।
০৭ জুলাই, ২০২২।
