চাঁদপুরে শতভাগ মাস্ক পরিহিত সাইকেল র‌্যালি

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে মাস্ক পড়ার বিকল্প নেই
……….জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান
শাহ্ আলম খান
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে মাস্ক পড়ার বিকল্প নেই। চাঁদপুরের সবার অংশগ্রহণে আমরা করোনার প্রথম ঢেউ যেভাবে মোকাবিলা করেছি একইভাবে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য সব সরকারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়েছে। সারা জেলা একযোগে আজকের এই সচেতনতামূলক র‌্যালিতে ১ হাজার ২শ’ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।
বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ৯টায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধকল্পে জনগণকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতন করার লক্ষ্যে শতভাগ মাস্ক পরিহিত সাইকেল র‌্যালি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।
পরে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের নেতৃত্বে ইলিশ চত্বর থেকে সাইকেল র‌্যালিটি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের স্টেডিয়াম রোড, মিশন রোড, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান আরো বলেন, চাঁদপুরে সচেতনতামূলক অভিযান করায় অধিকাংশ মানুষ মাস্ক পড়ছেন। এখন থেকে সব সরকারি দপ্তর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যারা সেবা নিতে ও দিতে আসবে তারা অবশ্যই মাস্ক পড়বেন। যদি কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানে তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় শুরু থেকে আমরা চাঁদপুরে সফলাতার সাথে কাজ করেছি। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে- করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পরে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে গরিব, দুঃখী, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। শুরু তাই নয় ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য দেয়া হয়েছে। সচেতনতার লক্ষ্যে পুরো শহরে মাইকিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, চাঁদপুরে করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবিলায় সচেতন থাকায় আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। আজ সারাদেশের মতো চাঁদপুরে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি আশা করি এখন থেকে চাঁদপুরবাসী তা মেনে চলবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) কাজী আবদুর রহিম বলেন, নিজেকে সুরক্ষা করতে হলে মাস্ক পরতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রীও মাস্কের বিষয় সবাইকে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ, করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ অবশ্যই আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) দাউদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অসীম চন্দ্র বণিক, ফায়ার সার্ভিস চাঁদপুর উত্তর স্টেশনের সহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক একেএম দিদারুল আলম, জেলা তথ্য অফিসার নুরুল হক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু, জেলা মার্কেটিং অফিসার রেজাউল করিমসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ও সড়কে পৃথক সচেতনতামূলক প্রচারণা করতে দেখা গেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান মানিক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন্নাহার শম্পা, মঞ্জুরুল মোর্শেদ, আবিদা সিফাত, সেলিনা আক্তার, ইমরান মাহমুদ ডালিম ও মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেইনসহ সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী, এনজিও, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, রেডক্রিসেন্ট, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রমুখ।
অপরদিকে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধকল্পে সারাজেলায় একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। জেলায় মোট ২১৪ মামলায় ২১৪ জনকে ২৪৬৪৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। চাঁদপুর সদরে ৩টি ভাগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৯০টি মামলায় ৯০ জনকে ১১০৪৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। উপজেলাভিত্তিক অভিযানে হাজীগঞ্জে ৯টি মামলায় ১৮শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। কচুয়া উপজেলায় ১৬টি মামলায় ১৭শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। শাহরাস্তিতে ৮টি মামলায় ৪শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ফরিদগঞ্জে ৪০টি মামলায় ৫৩৫০টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মতলব উত্তরে ১৩টি মামলায় ২২শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মতলব দক্ষিণে ১১টি মামলায় ১১শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। হাইমচরে ১৩টি মামলায় ১৩শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এছাড়া চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরান হোসেন সজিব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৪টি মামলা দায়ের করেন।
১৯ নভেম্বর, ২০২০।