টাঙ্গাইলে জেলা কালচারাল অফিসারকে হত্যার প্রতিবাদে
স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামকে হত্যার প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি উদ্যোগে সাংস্কৃতিক শিল্পীদের মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১টায় জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মুখে মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপাতি তপন সরকার, জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য শহীদ পাটোয়ারী ও কণ্ঠশিল্পী রূপালী চম্পক, প্রবীণ কণ্ঠশিল্পী ইতু চক্রবর্তী, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মহাসচিব হারুন আল রশিদ, বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী, শিল্পচূড়া, চাঁদপুরের সভাপতি মাহবুব সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক লিটন ভূঁইয়া, স্বরলিপি নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম আর ইসলাম বাবু, মেঘনা থিয়েটারের সভাপতি তবিবুর রহমান রিংকু, অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মৃণাল সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলমগীর ও মানিক দাস, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের উপদেষ্টা ডা. পীযুষ কান্তি বড়ুয়া ও সভাপতি মুক্তা পীযুষ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কর্মকর্তা জাকির মিয়াজী ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বাবর, মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদের সভাপতি অজিত দত্ত, চাঁদপুর ড্রামার সহ-সভাপতি একে আজাদ ও নজরুল ইসলাম রণি, নাট্যশিল্পী পলাশ মজুমদার, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক পরিমল দাস নুপুর, নৃত্যধারার অধ্যক্ষ সোমা দত্ত, জেলা শিল্পকলা একাডেমির অফিস সহকারী মাসুদ দেওয়ান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালের কেবিনে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র কালচারাল অফিসার খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম। এর আগে ২২ মার্চ তিনি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে ওই হাসপাতালের ১১নং কেবিন অবস্থান করছিলেন। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তার স্বামী মো. দেলোয়ার হোসেন মিজান (যিনি স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের ভোলা মহাজন পট্টি শাখায় কর্মরত) গাঢাকা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন মিজান এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ হত্যার প্রতিবাদে সারদেশের মতো চাঁদপুরেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় তুলে। পৃথিবীতে জন্ম নেয়া তার একমাত্র ৫ দিনের শিশু এখন মা হারা হয়ে গেলো।
সেজন্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি, অপরাধীকে যেনো দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠিনতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। যেনো ভবিষ্যতে এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড কেউ না ঘটাতে পারে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
০১ এপ্রিল, ২০২১।
