চাঁদপুরে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত

শাহ্ আলম খান
‘ভ্যাকসিন হিরো সম্মান, স্বাস্থ্য সহকারীর অবদান’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের ১১ ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের ১২ এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের জন্য ১৩তম গ্রেড প্রদানের মাধ্যমে নিয়োগবিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছে বাংলাদেশ হেলথ এসিসট্যান্ট এসোসিয়েশন চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখা। রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকাল পর্যন্ত চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএইসএএ) এর চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রিয় দাবি বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য দেওয়ার মাসুদ রহমানের সভাপতিত্বে ও বিএইসএএ’র সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী গাজীর পরিচালনায় কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় বক্তারা বক্তব্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের এক মহাসমাবেশে বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য কমিটি গঠন করে দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত সেসব দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বক্তারা আরো বলেন, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আমরা হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বর্জন করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমাদের দাবি মেনে নিয়ে সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেন। আমরা এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চাই। সারা বাংলাদেশে ইউনিয়নভিত্তিক ইপিআই টিকাকেন্দ্রে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বন্ধ হয়েছে। আমরা চাকরির প্রারম্ভিক কাল থেকে অবহেলিত, বঞ্চিত ও চরম বৈষম্যের শিকার। অথচ টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বিশ্বের রোলমডেল। শুধু টিকাদানে সাফল্য নয়, এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা কাজ করে চলেছি অদ্যাবধি। আমাদের অর্জন মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো। পোলিওমুক্ত বাংলাদেশ। শিশুদের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ। গুটিবসন্ত মুক্ত বাংলাদেশ। হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন। হেপাটাইটিস-বি মুক্ত বাংলাদেশ ও নিউমোকক্কাল জনিত নিউমোনিয়া নিয়ন্ত্রণ। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও ধনুষ্টঙ্কার মুক্ত বাংলাদেশের পুরস্কার অর্জন। করোনা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে প্রথম দিকে হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করা, জনগণকে সচেতন করা, আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে প্রেরণ করা। পুরস্কারসমূহ হলো- এমডিজি-৪, সাউথ সাউথ পুরস্কার, দক্ষিণ এশিয়ার টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম স্থান অধিকার। হাম- রুবেলা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অগ্রগতি পুরস্কার এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গ্যাভি প্রধানমন্ত্রীকে ভ্যাক্সিন হিরো উপাধিতে ভূষিত করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা দাবি বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমম্বয়ক মো. মনির হোসেন তালুকদার, সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন গাজী, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, সহ-সম্পাদক বিএম রোকনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল¬াহ ইউসুফ, অর্থ সম্পাদক আল-মামুন, উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন টুটুল, সদর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক মো. শাহআলমসহ আরো অনেকে।
৩০ নভেম্বর, ২০২০।