চাঁদপুরে হোমল্যান্ডের গ্রাহকদের মেয়াদোত্তীর্ণ বীমার টাকা জন্য বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার
হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর চাঁদপুর ব্র্যাঞ্চে গ্রাহকদের মেয়াদোত্তীর্ণ বীমার টাকা না পাওয়ার কারণে বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর দক্ষিণ পাশের ভবনের ৩য় তলায় ১টা পর্যন্ত গ্রাহকরা অফিসের ভেতরে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় দায়িত্বরত ইনচার্জরা পালিয়ে গেছেন বলে তারা অভিযোগ করেছে। গ্রাহকদের পাওনা টাকা ফিরে পাওয়ার জন্য চরম শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর নারায়নপুরের ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম ২০০৬ সালে ২০ হাজার টাকা করে একটি বীমা করেন। ২০১৭ সালে সাড়ে ২০ হাজার টাকার আরেকটি বীমা করেন। এখন দু’টি বীমার জমানোর টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। হোমল্যান্ড চাঁদপুর কার্যালয়ে এসে শুধু হয়রানি আর অপমানিত হয়েছেন তিনি। দু’টি বীমার টাকা এ কার্যালয়েই জমা দিয়েছে। পুরাণবাজারের ফাতেমা বেগম ৫ হাজার টাকা করে বছরে জমা দিয়েছে, সে টাকার মেয়াদও ইতোপূর্বে শেষ হয়েছে। একাধিকবার অফিসে টাকার জন্য এসে শুধু অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের হয়রানির কবলে পড়তে হয়েছে।
তরপুরচন্ডীর ইউনুছ খান বছরে ২১ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন। সে বীমারও মেয়াদ ইতোপূর্বে শেষ হয়েছে। কিন্তু সুদে-আসলে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য কয়েক দফা অফিসে এসে কোন প্রকার আশ্বাস না পেয়ে দুশ্চিন্তায় তাকে থাকতে হয়েছে। চান্দ্রার মুসলিম বছরে ৫ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছে। সে বীমারও মেয়াদ ইতোপূর্বে শেষ হয়েছে। আসল টাকাসহ লাভের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য অফিসে যে কতবার এসেছে, তার হিসাব তার জানা নেই বলেও জানিয়েছে। এ রকম অসংখ্য গ্রাহক তাদের পাওনা টাকার জন্য অফিসে প্রতিনিয়তই আসছে। অফিসের দায়িত্বরত ইনচার্জ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অফিসে আসা থেকে বিরত রয়েছে। অফিসের দায়িত্বরত ইনচার্জের দেখা যেন এখন সোনার হরিণের মতো।
সরেজমিনে সোমবার হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর অফিসে গিয়ে দায়িত্বরত কারোই দেখা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা সংবাদকর্মীদের খবর দেয়। সেখানে সংবাদকর্মীরা গিয়ে অফিসের প্রধান দায়িত্বরত, সহকারী দায়িত্বরত ব্যক্তির শুধু খালি চেয়ারের দেখা মিলেছে। দু’জন অফিসের স্টাফ থাকলেও তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানান।
চাঁদপুর হোমল্যান্ড শাখার একক বীমার ইনচার্জ মো. মহসিন তালুকদার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অফিসে অনুপস্থিত থাকছেন। ভুক্তভোগীরা তাদের পাওনা টাকা নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এ বিষয়ে চাঁদপুরের একক বীমার ইনচার্জ মুহসিন তালুকদারের ব্যবহৃত (০১৯২৭৯০৩৬০৬) নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। চাঁদপুর হোমল্যান্ড শাখার ভুক্তভোগী গ্রহকরা তাদের বীমার টাকা ফেরৎ পাওয়ার জন্য হোমল্যান্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৮ আগস্ট, ২০২০।