চাঁদপুরে ১০৯টিসহ প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেল ৫৩ হাজার পরিবার

তৃণমূলের বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে সরকার
……..প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার
মুজিববর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুরে ১০৯টিসহ প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পেল ৫৩ হাজার পরিবার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৪০ পরিবারকে দু’শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার (২০ জুন) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চাঁদপুরসহ ৪৫৯টি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব মানুষদের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, করোনার কারণে আমি যেহেতু যেতে পারিনি। আমার পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ডিসি এবং ইউএনও জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দিচ্ছেন। ক্ষমতায় থাকার মানে হচ্ছে মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া। মানুষের সেবক হিসেবেই তৃণমূলের বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে সরকার। দেশের একটি মানুষও ভূমিহীন গৃহহীন থাকবে না। আওয়ামী লীগ সরকার ভোগ করতে নয়, এসেছে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সরকারের উন্নয়ন থেকে কেউ বাদ পড়বে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একটি ঘর পেয়ে দুঃখী মানুষের মুখে যে হাসি দেখতে পাই এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার জীবনে আর কিছু নেই। মানুষের জন্য মানুষ এটাই সব থেকে বড় কথা। পুরো বাংলাদেশ আমি ঘুরেছি। গ্রামে-গঞ্জে, মাঠে-ঘাটে। আওয়ামী লীগ অধিকার নিয়ে কাজ করে। জাতির পিতা মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে জমি পাব না, এই তহবিল থেকে জমি কিনে দেব, ঘরে করে দেব। এভাবে আমরা চাচ্ছি, বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোথাও কেউ গৃহহীন থাকলে আমাদের জানাবেন। আমরা তাদের ঘরবাড়ি করে দেব। আমি মনে করি, এতটুকু করলে আত্মা শান্তি পাবে।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি, বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করবো। এজন্য শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছি, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেছি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি গৃহহীন মানুষকে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, বস্তিবাসীর জন্য ঢাকায় ভাড়ায় থাকার জন্য ফ্ল্যাট করে দিচ্ছি। অর্থনৈতিক নীতিমালায় আমরা তৃণমূলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। গ্রাম পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া। তাদের খাদ্য, শিক্ষা ও বাসস্থান নিশ্চিত করা। তৃণমূল মানুষের জীবন জীবিকা নিশ্চিত করছি। ক্ষমতা থেকে নিজে খাব, নিজে ভালো থাকব, এটা নয়। ক্ষমতা আমাদের কাছে ভোগের বিষয় নয়। কীভাবে মানুষকে ভালো রাখা যায় এটা হলো বড়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ২য় পর্যায়’ ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশসহ বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ১০৯ ঘর ছিন্নমূল পরিবারের মাঝে জমির দলিল ও ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেন। দলিলে জমির মালিকানা স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে করে দেয়া হয়েছে। তাদের নামে স্থায়ী দলিলের পাশাপাশি নামজারি করে খাজনা দাখিলাও দেয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান।
চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, এনএসআই’র উপ-পরিচালক শাহ্ আরমান আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানাসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ।
উল্লেখ্য, মুজিববর্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি এবং গৃহ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এ বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা বাড়ি ও ব্যারাকে ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ গৃহ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজকের আশ্রয়ণের মধ্য দিয়ে গত ছয় মাসে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ২৪৪টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে চাঁদপুর জেলায় পেল ১০৯টি পরিবার সেমিপাকা ঘরে আছে দু’টি রুম, একটি বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট। পাশাপাশি সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও আছে। এছাড়া আত্মনির্ভরশীল করতে ওইসব পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণও দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, দ্বিতীয় পর্যায়ে সদর উপজেলায় ঘর পাবে ১৭টি, কচুয়া উপজেলায় ২টি, মতলব উত্তর উপজেলায় ৩০টি, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১০টি, শাহরাস্তি উপজেলায় ৩০টি ও হাইমচর উপজেলায় ২০টি পরিবারের সেমিপাকা ঘর, দু’শতক জমির কাগজ ও ঘরের চাবি হস্তাস্তর করে।
এর আগে চাঁদপুর জেলায় প্রথম পর্যায়ে গৃহ প্রদান করা হয় ১১৫টি পরিবারকে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪০টি, কচুয়া উপজেলায় ১৫টি, মতলব উত্তর উপজেলায় ৫টি, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৫টি, শাহরাস্তি উপজেলায় ৫টি, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ২৫টি, হাইমচর উপজেলায় ২০টি।

২১ জুন, ২০২১।