চাঁদপুরে ১০ টাকা কেজি চালের তালিকার অনলাইনে ঘাপলা

অনেক অসহায় পরিবারের নাম পরিবর্তন

সজীব খান
হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের জন্য আগের ১০ টাকা কেজি দরে কার্ডগুলো অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করার জন্য সরকারি নির্দেশনা দিয়েছে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সদরের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রায় ওয়ার্ডের পুরনো অনেক কার্ড পরিবর্তন করে নতুন ব্যক্তিদের নামে অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যরা সরকারের দেওয়া বিধিকে উপেক্ষা করে তাদের প্রছন্দের ব্যক্তিদের নাম অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করেছেন। নির্বাচনের সময় অনেকে তাদের ভোট না দেওয়ার কারণে এ কার্ড পরিবর্তন করেছে বলে ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে। রিক্সাচালক, দিনমজুরসহ অনেক অসহায় পরিবারের নাম পরিবর্তন করে নতুনভাবে তালিকা করে অনলাইন করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুর খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তথ্যমতে জানা যায়, সরকার, মৃত ব্যাক্তি, প্রবাসী, যাদের আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে- তাদের নাম বাদ দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে এবং কার্ডগুলো অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাঁদপুরে এমন কোন ওয়ার্ড নেই যে, যেখানে অসহায় দিনমজুরের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। এসব বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে- অনেক চেয়ারম্যানকে না জানিয়েই অনেক ওয়ার্ড সদস্য তাদের ইচ্ছেমত নাম পরিবর্তন করেছে।
চাঁদপুরে অনলাইনে ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড কয়েক দিন যাবৎ অনলাইনে নাম এন্ট্রি করা চলেছে। ওয়ার্ড সদস্যরা এ সুযোগে অনেক নিরীহ পরিবারের কার্ডগুলো বাতিল করে তাদের পছন্দের ব্যাক্তিদের নাম অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করেছে।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের উপকারভোগী পরিবার অনেক নিরীহ ও অস্বচ্ছল। তারা সরকারে এ উপকারকে সাধুবাদ জানিয়ে বিগত দিনে ১০ টাকা করে চাল ক্রয় করে আসছে। এখন সরকার ১৫ টাকা দরে চাল বিতরণের ঘোষণা দিলেও উপকারভোগী সব পরিবার সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি এলোমেলো করে ফেলেছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর ইউএনও (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার ১০ টাকা কেজি দরের তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশনা দিয়েছে এবং অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করার জন্য প্রতিটি ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। কার্ডগুলো হালনাগাদ করার জন্য তাদের সরকারি নির্দেশনাও বলা হয়েছে।

২৯ আগস্ট, ২০২২।