চাঁদপুরে ১১তম চতুরঙ্গ ইলিশ উৎসব শুরু


স্টাফ রিপোর্টার
চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে ১১তম প্রাণ ফ্রুটিক্স ইলিশ উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বৈরী আবহাওয়ার মাঝে ইলিশ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী ইলিশ উৎসবের সূচনা হয়েছে। সূচনা অনুষ্ঠানে ইলিশ উৎসবের রূপকার ও চতুরঙ্গের মহাসচিব হারুন-আল-রশীদের পরিচালনায় এবং সংগঠনের চেয়ারম্যান অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন।
এ সময় তিনি বলেন, আজ থেকে ইলিশ উৎসব শুরু হয়েছে। সারা দেশে প্রচলিত কথা হলো সরষে ইলিশ। একেকটি দেশ একেকটি জিনিসের জন্য বিখ্যাত। তেমনি চাঁদপুর ইলিশের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন ১০টি বছর পার করে এ বছর ১১তম ইলিশ উৎসব শুরু করেছে। আমাদের জাতীয় সম্পদ ইলিশ। আর চাঁদপুর হলো ইলিশের রাজধানী। এ অঞ্চলে ইলিশ নিধনের জন্য অসাধু জেলেরা এখন কারেন্ট জাল সংগ্রহ করেছে। তারা সরকারের বিধি নিষেধ না মেনে জাটকা ও মা ইলিশ নিধন করে। ইলিশ উৎসবের মাধ্যমে অসাধু জেলেদের জানাতে চাই- আপনারা সরকারের বিধি নিষেধ মেনে চলবেন। আপনারা জাটকা ও মা ইলিশ খাবেন না। মা ইলিশ রক্ষায় যারা কারেন্ট জাল উৎপাদন করছেন তারা মা ইলিশ রক্ষায় কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ইলিশ উৎসবের আহ্বায়ক কাজী শাহাদাত, প্রাণ ফ্রুটিক্স ব্যান্ড ম্যানেজার মো. সালেকীন, প্রাণ সরিষার তেল ব্যান্ড ম্যানেজার মো. নাজমুল হাসান, কোস্টগার্ড স্টেশনের সাইফুল্লাহ বাহার, কান্ট্রি ফিশিং বোর্ড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহআলম মল্লিক প্রমুখ।
সূচনা বক্তব্য পর্ব শেষে ইলিশ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভা যাত্রা শেষে ক্ষুদে গানবাজদের অডিশন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধ্যায় ইলিশ বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইলিশের মতো সুস্বাদু মাছ নিয়ে এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চাঁদপুরেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই অনুষ্ঠানে অনেক জ্ঞানী গুণী লেখক এসেছেন। গুণী ব্যক্তিরা এখানে এসে চাঁদপুরে ইলিশের ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন। আর এই লেখনীর মাধ্যমে চাঁদপুরের কথা উঠে আসায় আমরা গর্ববোধ করি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একার কাজ নয়। চতুরঙ্গ তাদের একজন। গত কয়েক বছর নান্দনিক ইলিশ চাঁদপুরে উৎসবের মাধ্যমে অণুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে ইলিশ নিয়ে কবিতা, ছড়া, আবৃতি তৈরি হচ্ছে। যারা এই ইলিশ উৎসবের সাথে সম্পৃক্ত তাদের শ্রদ্ধা জানাই। ইলিশ নিয়ে বিতর্ক প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেয়া হবে। প্রান্তিক এলাকায় অর্থাৎ জেলেদের বাস ওইসব এলাকায় ইলিশ নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে দেব। তার জন্য চতুরঙ্গের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জেলা প্রশাসন তাদেরকে সার্বিকভাবে সহায়তা দিবে।
তিনি আরো বলেন, আপনারা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে অংশগ্রহণ করবেন। সেখানেও ইলিশকে তুলে ধরবেন। উন্নয়ন মেলায় চতুরঙ্গের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে হবে। সেখানে চতুরঙ্গের এই আয়োজন উল্লেখ করবেন। মা ইলিশ রক্ষায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি এ বছর চাঁদপুরে নৌবাহিনীকে এনেছেন। আমরা চাই মা ইলিশের গায়ে যাতে কোন ধরনের অসাধু জেলেরা আচড় দিতে না পারে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চতুরঙ্গের উপদেষ্টা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের সভাপতিত্বে আলোচকের বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিসেবী মনজুর আহমেদ মঞ্জু। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী ও ইলিশ উৎসবের আহ্বায়ক কাজী শাহাদাত।
গোল টেবিল বৈঠক শেষে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে ডা. শুভ দাসের পরিচালনায় লক্ষ্মীপুর জেলার লতিকা নৃত্যালয়, ত্রিপুরা আগরতলার অতিথি শিল্পী উত্তম সাহা ও রংধনু সৃজনশীল নৃত্য সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।