চোরাকারবারী আনোয়ারকে কারাগারে প্রেরণ
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় অভিযান চালিয়ে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ মালবাহী একটি লাইটার জাহাজ থেকে গম পাচারকালে ১১৬ বস্তা চোরাই গম ও একটি ইঞ্জিনচালিত স্টিলবডি ট্রলার জব্দ করেছে।
অভিযানকালে ট্রলারে থাকা ৫/৬জন চোরাকারবারী টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও চোরাকারবারী আনোয়ার হোসেন (৪৫) কে আটক করা হয়। আটক আনোয়ারকে রোববার (৭ নভেম্বর) আদালতে পাঠালে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
জব্দ করা ট্রলার ও ১১৬ বস্তা চোরাই গম চাঁদপুর নৌ-থানা হেফাজতে রয়েছে বলে নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানায় নৌ-ইনচার্জ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৪, তারিখ:-৭-১১-২০২১ইং।
জানা যায়, চাঁদপুর মেঘনা নদীর মোহনা হতে গত শনিবার ৫০ কেজি ওজনের ১১৬ বস্তা চোরাই গম উদ্ধার করে কোস্টগার্ড টহল সদস্য ও নৌ-পুলিশ সদস্যরা। যার বাজার মূল্য প্রায় সোয়া ২ লাখ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর নৌ থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম থেকে মালামাল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়া মালবাহী লাইটার জাহাজ থেকে দীর্ঘদিন এইভাবে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও মালামাল চোরাই পথে বিক্রি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আটক আনোয়ার হোসেন শহরের ৩নং কয়লাঘাট এলাকার জাব্বার রাঢ়ীর ছেলে। সেই এই চোরাকারবারীর সাথে দীর্ঘ বছর জড়িত বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, মেঘনা মোহনা থেকে চোরাই মাল কেটে প্রায় সময়ই আনোয়ার পুরানবাজারে বিক্রি করে থাকে। আনোয়ার রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ৩টি ঘর নির্মাণ করেছে শহরের আক্কাছ আলী হাই স্কুলের পিছনে। এছাড়া সে শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, কোস্টগার্ড ট্রলার ও গম জব্দ করে ও চোরাকারবারী আনোয়ার হোসেনকে আটক করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। শনিবার বিকেলে আটক ব্যাক্তি আনোয়ার হোসেনকে কোস্টগার্ড নৌ-থানায় হস্তান্তর করে। রোববার (৭ নভেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দ্দেশ দেন।
তিনি আরো জানান, কোস্টগার্ড সন্দেহ হলে মালমাল ও আসামিকে আটক করে আমাদের কাছে জব্দকৃত ট্রলার, ১১৬ বস্তা গম ও আনোয়ারকে প্রেরণ করার পর যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়, গমগুলো চোরাই মাল। পরে আমি নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা করি। বর্তমানে মালামাল ও ট্রলার নৌ-থানা হেফাজতে রয়েছে। আটক আসামিকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলার আলোকে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
০৮ নভেম্বর, ২০২১।
